বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যে জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের একা তার কক্ষে ডেকে এনে কৌশলে শরীরের স্পর্শকাতর (গোপনাঙ্গ) স্থানে হাত দেন। এতে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছে। ওই শিক্ষকের হাতে ৬/৭ জন শিক্ষার্থী লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক তপন কুমার ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়ায় ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি তার পরিবারকে জানায়। আস্তে আস্তে তা অভিভাবক মহলে ছড়িয়ে যায়।
এরপর দুপুরে উত্তেজিত অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক তপন কুমার কৌশলে বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যান। এ সময় খবর পেয়ে সোনাতলা থানার ওসি শরিফুল ইসলাম পুলিশ নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কয়েকজন ছাত্রী জানান, কৌশলে ডেকে তাদের লাঞ্ছিত করেছে প্রধান শিক্ষক।
অভিভাবক আব্দুল সরকার বলেন, তার নাতনি কিছুদিন আগে বলেছে, সে আর ওই বিদ্যালয়ে পড়বে না। কি কারণে পড়বে না তা বলতে চায়নি।
তবে প্রধান শিক্ষক তপন কুমারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফরহাদ হোসেন জুয়েল বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
সোনাতলা থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন না ঘটে সেজন্য পুলিশ নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। শিক্ষার্থী বা অভিভাবকরা থানায় অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সোনাতলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর আলম বলেন, বিষয়টি এখনও কেউ জানায়নি। তবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরএআর/এমএস