দেশজুড়ে

ধানের চেয়ে পান চাষ বেশি

পাহাড়ে ধানের চেয়ে পান চাষ বেশি হয়। ধানের চেয়ে পান চাষ বেশি লাভজনক হওয়ায় দিন দিন পান চাষের দিকে ঝুঁকছেন পার্বত্য খাগড়াছড়ির চাষিরা।

ফলে পাহাড়ের সমতল ভূমিতে পান চাষের পরিধিও বাড়ছে। পার্বত্য খাগড়াছড়ির সমতল ভূমিতে মিষ্টি পান চাষে সাফল্য পেয়েছে স্থানীয় চাষিরা। পানের গুণগত মান ভালো হওয়ায় পাইকারদের মাধ্যমে এসব মিষ্টি পান জেলার বাইরের বিভিন্ন জেলা যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে পানের ভালো ফলনে কৃষকরা সাফল্যের ঢেকুর তুলেছেন। সব মিলিয়ে পাহাড়ে মিষ্টি পান চাষে আস্থা বাড়ছে চাষিদের।

সম্প্রতি খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, পানছড়ি, বাবুছড়া ঘুরে দেখা গেছে, সমতল ভূমিতে অর্থনীতির হাতছানি দিচ্ছে সারি সারি পানের বরজ। কিন্তু এ কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারের কৃষি বিভাগের কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ চাষিদের।

কৃষকদের মতে, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সহযোগিতার অভাবে রোগবালাইয়ের প্রতিকারও পাচ্ছেন না তারা। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতি বছর।

মিষ্টি পানের আবাদ থেকেই সংসার চলে দীঘিনালার মালতি চাকমার। ১৫ বছর ধরে পান চাষে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন পাহাড়ের এ নারী চাষি। পুঁজির অভাবে চাষের পরিধি বাড়াতে না পারার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০ শতক সমতল ভূমিতে ছোট বড় দুটি বরজে পান চাষ করেছেন। ৫০ হাজার টাকা খরচ করে দুই বরজে ১০ হাজার পানের চারা রোপণ করেছেন। একটি সুস্থ পান গাছ থেকে ৮০ থেকে ১৪০টি পান পাওয়া যায় জানিয়ে তিনি এবছর এক লাখ টাকা আয় করার স্বপ্ন দেখছেন।

সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পান চাষে খরচ বেড়েছে উল্লেখ করে পানছড়ির পান চাষি যুবরাজ চাকমা বলেন, নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ না করলে পানের বরজ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। পান চাষের সম্প্রসারণে সরকারি সহযোগিতা দাবি করেন তিনি।

একসময় মহেশখালী ও বাঁশখালীর পানের ওপর নির্ভর করতে হতো জানিয়ে পানের পাইকার ব্যবসায়ী মিলন দে বলেন, দীঘিনালা, নৌকাছড়া, বাবুছড়া, পানছড়ির বিভিন্ন বরজ থেকে পান সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে থাকি। সমতলে পাহাড়ের মিষ্টি পানের চাহিদা আকাশছোঁয়া বলেও দাবি করেন তিনি।

পান খুবই সংবেদনশীল ফসল মন্তব্য করে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, পানের সবচেয়ে মারাত্মক রোগ পাতায় মড়ক। মড়কের কারণে চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে পান চাষে কৃষক অধিক লাভবান হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এএম/আরআইপি