নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় নাসিকের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ইন্টিরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় আইভীর জামিন না মঞ্জুর করেছে আদালত। এর আগে, গত ২ মার্চ দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে গ্রেফতার আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, মামলার এজাহারে আইভীর নাম নেই। এজাহারকারী অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমানকে চিনতে পারলে সেখানে আইভী থাকলে তাকেও চিনতে পারতেন এবং তার নাম উল্লেখ করতেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনগড়াভাবে ও হয়রানি করার জন্য আইভীকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আমরা আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি মামলায় ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে শোন অ্যারেস্টের আবেদন করেন। ২০২৪ সালের ৩০ জুন কৃষক ওয়াজেদ আলি বাদি হয়ে ইন্টিরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই চিটাগাং রোড এলাকা ডার্চবাংলা ব্যাংক লিমিটেডের নিচতলায় অগ্নিসংযোগ ঘটে। এতে ব্যাংকের ইন্টিরিয়র ডেকোরেশনের কাজে নিয়োজিত সেলিম মণ্ডলসহ তিন শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যায়।
তার আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলায় এবং সদর মডেল থানায় দায়ের করা হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলায় জামিন পান।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ মে ভোর রাতে শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই সঙ্গে গত বছরের নভেম্বর মাসে হাইকোর্ট ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচ মামলায় জামিন দিয়েছিলেন। এরপর আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরে ১৮ নভেম্বর তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা ও সদর থানায় দায়ের করা আরও পাঁচ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/কেএইচকে/জেআইএম