টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অনলাইনে আবেদনকারী ৫৭০ জন মুক্তিযোদ্ধার যাচাই-বাছাই শেষে কমিটির সদস্য সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই ৯৪ জনকে শনাক্ত করে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ইসরাত সাদমীন শনাক্তকারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেন। অবশ্য বাতিল হওয়া সবাই আপিলের সুযোগ পাবেন বলে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি সূত্র জানিয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় কমিটির সদস্য সচিবের স্বাক্ষর না থাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গত বছরের ২০ মে অনলাইনে আবেদনকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ হলেও দীর্ঘ আট মাস পর ২৩ জানুয়ারি তালিকা প্রকাশ করে এবং তা উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দেয়া হয়। তালিকায় দেখা গেছে ৯৪ জনের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির সুপারিশ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদনকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ৪৭৬ জন বাদ পড়েছেন।
এরমধ্যে অনেকেই যাচাই-বাছাই কমিটির মুখোমুখি হননি বলে জানা গেছে। এছাড়া এক তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই ২১ মে থেকে শুরু হয়। অজ্ঞাত কারণে মাঝপথে ৩০ মে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থাগিত রাখা হয়। এ কারণে এক তালিকাভূক্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন।
তালিকা প্রকাশ করা হলেও প্রকাশিত তালিকায় যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মর্কতা ইসরাত সাদমীনের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়ে ইসরাত সাদমীন বলেন, প্রকাশিত তালিকায় সদস্য সচিবের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না।
এদিকে তালিকা প্রকাশের পর অনেকেই জানতে পারেন তাদের নাম বাদ পড়েছে। এ নিয়ে যাচাই-বাছাই কমিটির সম্মুখীন হওয়া আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা জামুকায় আপিল করবেন বলে জানা গেছে। আজাগানা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হালিম শিকদার অভিযোগ করেন, প্রথমত প্রকাশিত তালিকায় সদস্য সচিবের স্বাক্ষর নেই। এছাড়া যাচাই-বাছাই চলাকালীন কমিটির সাতজনের মধ্যে সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিনিধিসহ তিনজন অনুপস্থিত ছিলেন। যাচাই-বাছাই চলাকালীন প্রতিদিন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। দীর্ঘ আট মাস পর কিভাবে তালিকা তৈরি করা হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়।
যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, অনলাইনে আবেদনকারী ৮২ জনের কাছ থেকে সাক্ষী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং কল্যাণ ট্রাস্ট ও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভলিয়মে নাম থাকায় যাচাই-বাছাই কমিটি সন্তুষ্ট হয়ে ১২ জনকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এস এম এরশাদ/এফএ/পিআর