সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সমকাল পত্রিকার সাংবাদিক শিমুল হত্যার সময় পৌর মেয়র (সাময়িক বহিষ্কৃত) হালিমুল হক মিরুর বাড়িতে হামলার ঘটনায় তার স্ত্রীর করা মামলার ১৫ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
একইসঙ্গে হামলার সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত এ মামলার দুই সাক্ষী জহির ও শাহেব আলীর শরীরে গুলির স্প্লিন্টার আছে কি-না তা মেডিকেল পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে শাহজাদপুর আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল হক এ আদেশ দেন।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিক সরকার জানান, মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাড়িতে হামলার ঘটনায় তার স্ত্রীর দায়ের করা মামলার মঙ্গলবার আসামিদের শাহজাদপুর আমলী আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল।
কিন্তু কোনো আসামি হাজির না হওয়ায় ১৯ জনের মধ্যে ১৫ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল হক।
বাকি চারজনের বিরুদ্ধে একই আদালত এর আগেই পরোয়ানা জারি করেছেন। তবে পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ১০ জন এ মামলার বিস্ফোরক ধারায় ২৩ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ হাজির হওয়ার পর থেকে কারাগারে থাকায় তাদের শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে।
তিনি আরও বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি হামলার সময় গুলিবিদ্ধ এ মামলার দুই সাক্ষী জহির ও শাহেব আলীর শরীরে গুলির স্প্লিন্টার আছে কি-না তা মেডিকেল পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন- শাহজাদপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র নাসির উদ্দিন, পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাহু, উপজেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি শেখ কাজল, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনের ব্যক্তিগত সহকারী যুবলীগ নেতা আশিকুল হক দিনার, সংসদ সদস্যের ভাগ্নে মিঠু ও ভিপি রহিমের শ্যালক মাসুদ।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুরের পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাড়িতে হামলা, আওয়ামলী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ওই সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমকাল পত্রিকার শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন মারা যায়।
ওই ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। একই সময় মেয়রের বাড়িতে হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনায় মেয়রের স্ত্রী লুৎফুন নেছা পিয়ারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করতে যান।
কিন্তু থানা মামলা না নেয়ায় তিনি পরবর্তীতে আদালতে মামলা করেন। পুলিশ মামলাটির তদন্ত শেষে সব আসামিদের বাদ দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
এরপর মামলার বাদী আদালতে নারাজি দিয়ে মামলাটি জুডিশিয়াল তদন্তের জন্য আবেদন করেন। আবেদনটি আমলে নিয়ে জুডিশিয়াল সাক্ষ্যগ্রহণের পর ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়।
পরে মামলাটি দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনের দুটি ধারার মধ্যে দণ্ডবিধি ধারায় শাহজাদপুর আমলী আদালতে এবং বিস্ফোরক আইনে সিরাজগঞ্জ স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন।
অপরদিকে, সাংবাদিকের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় সাময়িক বহিষ্কৃত মেয়র মিরু এখনও জেলহাজতে রয়েছে। জামিনে রয়েছেন ২৯ আসামি। আর আটজন পলাতক রয়েছেন।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/পিআর