দেশজুড়ে

বিদ্যালয় ঘেঁষে করাতকল, শব্দে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা

নীতিমালা অমান্য করে ধোপাডাঙ্গা-নলডাঙ্গা সড়কের পাশে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর কিশামত হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে একটি করাতকল (স’মিল) স্থাপন করা হয়েছে। সেই করাতকলের শব্দ ও কাঠের গুড়া উড়ে এসে চোখে পরায় ভোগান্তিতে পড়েছে বিদ্যালয়টির প্রায় ২২৬ জন শিক্ষার্থী। বিষয়টি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের অবগত করলেও এটি দেখার যেন কেউই নেই।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান এবং জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিঘ্ন সৃষ্টি করে এরূপ কোনো স্থানের ন্যূনতম ২০০ (দুইশত) মিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু এ নিয়ম অমান্য করেই দুই বছর আগে ওই বিদ্যালয়টির পাশে একটি করাতকল নির্মাণ করেন বিদ্যালয়টির সভাপতি খান মোহাম্মদ আলী। তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রধান অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঠের গুড়া চোখে গেলে কর্ণিয়া ক্ষতিগ্রস্ত ও গুড়া নিশ্বাসের সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাও হতে পারে।

উত্তর কিশামত হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে এক বিঘা জমির ওপর স্থাপিত এ বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয় ২০১৩ সালে। এখানে শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন ও ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ২২৬ জন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয় মাঠ ঘেঁষে উত্তর পাশে একটি করাতকল গড়ে তোলা হয়েছে। কাঠের গুড়া যাতে উড়ে না আসে সেজন্য কয়েকমাস আগে টিনের বেড়া দেয়া হয়েছে। এরপরও করাতকলে গাছ কিংবা কাঠ ফাঁড়াই করার সময় গুড়া বিদ্যালয় মাঠে উড়ে আসে। আর শব্দও হয় ভীষণ। এছাড়া বিদ্যালয়ে প্রবেশপথে গরুর খামারের মল-মূত্র ও দুর্গন্ধ ভোগান্তিতে ফেলেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্র জানায়, যখন করাতকল চালু করা হয় তখন অতিরিক্ত শব্দে পড়ার মনোযোগ নষ্ট হয়। এছাড়া কাঠের গুড়া উড়ে এসে চোখে পড়ে। আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ওবায়দুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, করাতকলের কারণে আমাদের সমস্যা হচ্ছে ঠিকই। এজন্য বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

খান মোহাম্মদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, আমি বিদ্যালয়ের জমিদাতা। এর আশেপাশে আমারই জমি। করাতকলটি আমার ছেলে চালায়। কাঠের গুড়া যাতে না যায়, সেজন্য টিনের বেড়া দিয়েছি। শুধু শুক্রবার করে করাতকলটি চালানো হয়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম গোলাম কিবরিয়া জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন অবগত হলাম। ওই করাতকলের অনুমোদন আছে কি-না, কীভাবে হলো তা খতিয়ে দেখা হবে।

রওশন আলম পাপুল/এমএএস/এমএস