‘আমাগের ভাটপাড়া গিরাম এহন দেশে কুল গিরাম নামে পরিচিত। প্রতিদিন ২-৩ ট্রাক ভরে বাউকুল দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়।’ হাসিমাখা মুখে এভাবেই নিজের গ্রাম সম্পর্কে অভিব্যক্তি বর্ণনা করলের ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিদুল ইসলাম।
কৃষি অফিসার আবু তালহা জানান, কৃষকরা প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ টাকার কুল বিক্রি করছেন। প্রতিদিন ২-৩ ট্রাক ভরে কুল যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। কুল চাষ একটি লাভজনক ফসল। কারো যদি এক বিঘা জমিতে কুল থাকে তাহলে সব খরচ বাদে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই গ্রামের ৯শ পরিবারের মধ্যে প্রায় ৮শ পরিবারই বাউকুল চাষের সঙ্গে জড়িত। গ্রামের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমির মধ্যে ২ হাজার ৪শ বিঘা জমিতে চাষ করা হয়েছে এই কুল।
আরও জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার নারী-পুরুষ কাজ করছে এসব বাগানে। গ্রামের সবচেয়ে বড় বাউকুলের বাগানের মালিক সোহরাব উদ্দিন। তিনি বাগান করেছেন ১৫ বিঘার উপর। এছাড়া গ্রামের এনামুল হকের ৬ বিঘা, তাজ উদ্দিনের ৮ বিঘা, সবুজ উদ্দিনের ৮ বিঘা, জিয়ার উদ্দিনের ৩ বিঘা, সিপনের ৬ বিঘা, মেহেদীর ৫ বিঘা, রশিদুল এর ৬ বিঘা, এপিয়ারের ৬ বিঘাসহ এই গ্রামের প্রায় ৮শ পরিবারের কুলবাগান আছে।
কৃষি অফিসের সূত্র মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাউকুল চাষের গ্রাম এটি। ২০১১ সালের দিকে এই গ্রামের স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক ও কৃষক তাজু উদ্দিন মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় প্রথমে দেড় বিঘা জমিতে বাউকুল চাষ করেন। সেই বছর তিনি কুল বিক্রি করে বেশ টাকা পান। এরপর কুল চাষে আগ্রহ বেড়ে যায় তার। পরের বছর আরো ৪ বিঘা জমিতে বাউকুল চাষ করেন। এরপর ডা. তাজু উদ্দিনকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তার দেখাদেখি শুরু হয় বাউকুলের চাষ। কুল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে অধিকাংশ চাষি।
প্রথম কুলচাষি ডা. তাজু উদ্দিন জানান, এখন তার ৮ বিঘা জমিতে কুল আছে। তার দেখাদেখি এখন প্রায় ২ হাজার ৪শ বিঘা জমিতে বাউকুল চাষ হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাউকুল মূলত ৩-৪ মাসের ফসল। যে জমিতে কুল চাষ করা হয় সেই জমিতে বোরো ধান কিংবা কলাই চাষ করা যায়।
বাউকুল চাষি লিটন জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি বাউকুল পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে। ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাগান থেকেই কুল ট্রাকে ভরে নিয়ে যাচ্ছে। এক বিঘা জমি থেকে ৯০ থেকে ১০০ কাটুন কুল সংগ্রহ করা যায়।
আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এমএস