দেশজুড়ে

লক্ষ্মীপুরে অর্ধশতাধিক একর জমির সয়াবিন পচনের আশঙ্কা

লক্ষ্মীপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিকল্পিতভাবে একটি চরের অর্ধশতাধিক একর জমির সয়াবিন খেতে পানি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এতে ওই চরের প্রায় ৩০ জন কৃষকের আবাদ করা সয়াবিন পচনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সদর উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামের চরে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ নিয়ে সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলী আহম্মদ থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। প্রতিকার না পেয়ে রোববার নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারককে অবগত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামের চরে অর্ধশতাধিক একর জমিতে সয়াবিন আবাদ করা হয়। প্রায় ৩০ জন ব্যক্তির মালিকানাধীন জমিতে এ আবাদ করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলার দালালবাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের আলী আহম্মদের ৮৬ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমিতে তিনি প্রতিবছর বর্ষাচাষির মাধ্যমে ফসলের আবাদ করান।

সম্প্রতি কমলনগর উপজেলার উত্তর চর মার্টিন গ্রামের আলমগীর, মো. মাকসুদ আলম, মফিজুর রহমান ও আবদুল মান্নান সহযোগীদের নিয়ে জমিটি দখলের পাঁয়তারা করে। ওই জমিতে তারা ভিটা বেঁধে ঘর নির্মাণ করার হুমকি দেয়।

বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ নিয়ে গত বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) আলী আহম্মদ বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।

আদালত স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেয়। পরে থানা থেকে উভয় পক্ষকে নোটিশ করা হয়। এ খবর পেয়ে আসামিরা পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) খাল থেকে পরিকল্পিতভাবে পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন করে খেতে দেয়। এতে খেতে আবাদ করা সয়াবিন ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই জমি ছাড়াও আশপাশ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সফিকুল ইসলাম, ফারুক ও সায়েদুল হক জানায়, তারা এ চরে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতি বছর সয়াবিনকে ঘিরে তারা রঙিন স্বপ্ন দেখেন। বর্তমানে মতলববাজরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা পরিকল্পিতভাবে পাম্পের মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলক খেতে পানি দিয়েছে। সয়াবিন সামান্য পানি পেলেই পচন ধরে। এতে তাদের সর্বনাশের আশঙ্কা রয়েছে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাকসুদ আলম বলেন, নিষেধাজ্ঞার নোটিশ আমি পেয়েছি। আমরা খেতে পানি দেইনি। জনগণ পানি দিয়েছি বলে শুনেছি। এখানে আমাদের করার কিছু নেই।

এ ব্যাপারে নোটিশকারী লক্ষ্মীপুর মডেল সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খেতে পানি দেয়ার বিষয়টি জেনেছি। এর আগে আদালতের স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ করা হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

কাজল কায়েস/এএম/পিআর