দেশজুড়ে

জেব্রা পরিবারে ফের নতুন সদস্য

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে মঙ্গলবার ভোরে আবারও জেব্রা পরিবারে নতুন আরেকটি বাচ্চার জন্ম হয়েছে। এনিয়ে তৃতীয় বারের মতো সাফারি জোনের আবদ্ধ পরিবেশে জন্ম নিয়েছে আফ্রিকার প্রাণি জেব্রা। বর্তমানে পার্কে জেব্রার সংখ্যা ১৪টিতে দাঁড়াল।

পার্কের বণ্যপ্রাণি পরিদর্শক মো. সরোয়ার হোসেন খান জানান, মঙ্গলবার ভোরে আফ্রিকার কোর সাফারি পার্কের ভেতর মায়ের সঙ্গে বাচ্চাটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। জন্মের পর মা জেব্রা ও বাচ্চা জেব্রাটি সুস্থ রয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর মা জেব্রা বাচ্চার শরীর জিহ্বা দিয়ে চেটে দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ঘাস মূলত তাদের প্রধান খাবার। মা জেব্রার পুষ্টি গুণের কথা চিন্তা করে তার খাবারে বেশ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঘাসের পাশাপাশি তাদের ছোলা, গাজর, ভুট্টা ও ভুসি দেয়া হচ্ছে। তবে এখনও কাছে যেতে না পারায় বাচ্চাটি পুরুষ না মাদি তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বণ্যপ্রাণি পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, জেব্রা হলো ইকুইডি পরিবারের আফ্রিকান ক্ষুরযুক্ত চতুষ্পদ স্তন্যপায়ী প্রাণি। যারা তাদের স্বতন্ত্র সাদা-কালো ডোরার জন্য পরিচিত। জেব্রার ডোরার এই নকশা প্রত্যেকের জন্যে আলাদা। এরা সামাজিক প্রাণি। এরা ছোট-বড় পাল তৈরি করে ঘুরে বেড়ায়। প্রাপ্ত বয়স্ক একটি জেব্রা সাধারণত ৮ ফুট লম্বা হয়। এদের ওজন ৩০০ কেজি ছাড়িয়ে যায়।

ডোরার পাশাপাশি এদের ঘাড়ে কেশর সদৃশ্য খাড়া চুল আছে। তবে জেব্রা ঘোড়া বা গাধার মত দেখতে হলেও এদেরকে পোষ মানানো যায় না। পুরুষ বাচ্চারা চার বছরে এবং মাদী বাচ্চারা তিন বছর বয়সেই অনেকটা পূর্ণতা লাভ করে। প্রাকৃতিকভাবে জেব্রা সাধারণত ২০ বছর বাঁচে। তবে আবদ্ধ পরিবেশে তারা ২০ বছরের বেশি সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ও ২০১৭ সালের ১৪ই মে জেব্রা থেকে বাচ্চা পাওয়া গিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন জানান, সাফারি পার্কের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিভিন্ন সময় দক্ষিণ অফ্রিকা থেকে এ পার্কে পাঁচটি পুরুষ এবং ছয়টি মাদি জেব্রা আনা হয়। মঙ্গলবার জন্ম নেয়া বাচ্চাসহ এ নিয়ে পার্কে জেব্রা পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা হলো ১৪টি। ভবিষ্যতেও জেব্রা পরিবার থেকে আরও বাচ্চা আশা করা হচ্ছে।

আমিনুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম