দেশজুড়ে

সামনে কঠিন যুদ্ধ : শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, সামনে কঠিন যুদ্ধ আসছে। এই যুদ্ধে জয়লাভ করলে আমরা টিকে যাব। আর যদি পরাজিত হই তবে আসবে কঠিন সময়। তবে জয় আমাদের অবশ্যম্ভাবী। কেউ আমাদের পরাজিত করতে পারবে না ইনশায়াল্লাহ। তবে সাবধান থাকতে হবে ষড়যন্ত্রকারীরা মাঠে নেমে গেছে। চতুর্দিকে ষড়যন্ত্র চলছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় খেয়াঘাট সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধনের আগে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। কিন্তু কষ্ট লাগে তখন যখন মুক্তিযোদ্ধার সেই পরিবারকে নিয়ে অনেকে কথা বলে। আমাকে নিয়ে বললে আমার কোনো কষ্ট হয় না। কিন্তু আমার পরিবারকে নিয়ে কথা বললে কষ্ট হয়। আরও বেশি কষ্ট হয় যখন দেখি যারা মুক্তিযুদ্ধ না করেও লাভবান হয়েছেন। কিন্তু কষ্ট লাগে যারা আজকে বড় বড় কথা বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা সে সময় নারায়ণগঞ্জের নেতৃত্বে ছিলেন। তাদের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি।

শামীম ওসমান আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ কাউকে ক্ষুধার্ত রাখার জন্যে নয়। অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। যারা মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন তারা হতে পারেন আওয়ামী লীগের নেতা, হতে পারেন ১০-১২টা বাড়ি-গাড়ির মালিক। অথচ সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের ৯০ ভাগ আজকে মারা গেলে কালকে তাদের সংসার কীভাবে চলবে তা তারা জানে না। মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা সামনে কিন্তু আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ রয়ে গেছে। এই যুদ্ধটা সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ। এই যুদ্ধে জয়লাভ করলে টিকে যাব আমরা। আর যদি পরাজিত হই তাহলে সামনে কঠিন সময় আসবে। জয় আমাদের অনিবার্য।

তিনি আরও বলেন, গোলাম আজমকে নারায়ণগঞ্জের মাটিতে নিষিদ্ধ করার পর যদি সারা বাংলাদেশ থেকে একইভাবে তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হতো তাহলে ২০০১ সালে বোমা হামলায় এতো নেতাকর্মীকে প্রাণ দিতে হতো না। আর বোমা হামলার কারণে চন্দন শীলকেও পা হারাতে হতো না আর আমি এতগুলো কর্মীকে হারাতাম না।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

শাহাদাত হোসেন/আরএআর/পিআর