বগুড়ায় এক নারী ও ব্যবসায়ীর উলঙ্গ ছবি তুলে চাঁদা আদায় করেছে এক যুবলীগ নেতা। এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা লতিফুল করিমসহ তার ৮ সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শহরতলরি বুজরুকবাড়িয়া গ্রামের বরফ ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে মঙ্গলবার সদর থানায় এ মামলা করেন। অভিযুক্ত লতিফুল করিম বগুড়া জেলা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা। তিনি শহরের পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন। এছাড়া চেলোপাড়া পূর্ব বগুড়া (চন্দনবাইশা) সড়কে সিএনজি অটোটেম্পুতে চাঁদা আদায় কার্যক্রমের সঙ্গেও জড়িত। এর আগে তার ভয়ে এলাকার কেউ মুখ না খুললেও এবারই প্রথম থানায় মামলা হলো।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বরফ ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বুজরুকবাড়িয়া গ্রামের আফসার আলীর ছেলে। গত ২৪ মার্চ তার সঙ্গে দেখা করার জন্য এক নারী আসে। তিনি পূর্ব-পরিচিত ওই নারীকে নিয়ে তার বন্ধু এনামুলের বাড়িতে যায়। সেখানে বসে কথা বলার সময় যুবলীগ নেতা করিমসহ তার সহযোগীরা সেখানে হামলা চালায়। তারা মান্নান এবং ওই নারীকে লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে। একপর্যায়ে দুইজনকে উলঙ্গ করে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে ছবি তোলে। অন্য একজন পুরো ঘটনাটি ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ড করে রাখে।
মারপিটের পর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইলের পালা। প্রথমে ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে করিম এবং তার সহযোগীরা। পরে তারা বাড়ির মালিক এনামুলকে লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে।
একপর্যায়ে আব্দুল মান্নানের ছোট ভাই আব্দুল হান্নানকে মোবাইলে ডেকে আনা হয়। এরপর বড় ভাইয়ের মতো তাকেও ব্যাপক মারপিট করা হয়। এমন অমানুষিক নির্যাতনের একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়া হয়।
ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান মামলায় উল্লেখ করেন, ওদিন রাত ৯টায় আমাকে ছেড়ে দেয়ার আগে শাসানো হয় এ ব্যাপারে কারো কাছে মুখ না খুলতে। পরে প্রতিবেশী জাহিদুল নামে একজনের জিম্মায় আরও ৩০ হাজার টাকা চাঁদা পরিশোধ করার অঙ্গীকার শর্তে আমাদের মুক্তি দেয়া হয়।
পরদিন ২৫ মার্চ আরও ১৫ হাজার টাকা জিম্মাদার জাহিদুলের কাছে আমি পরিশোধ করি। এ সময় করিম আমাদের নির্দেশ দেয় মারপিটে যারা আহত হয়েছে তারা যেন বাইরে চিকিৎসা না করে। কিন্তু প্রচণ্ড মারপিটের কারণে এনামুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আসামিরা তাকে চিকিৎসার কথা বলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এখনো তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, পুলিশি তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
লিমন বসার/এএম/এমএস