পটুয়াখালীর বাজারে উঠেছে রসালো ফল তরমুজ। জেলা সদরসহ আশপাশের স্থানীয় বাজার এখন তরমুজে সয়লাব। এবার পটুয়াখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা ও চাষিরা।
স্থানীয় কয়েকজন চাষি বলেন, এ মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি বছর এখানকার উৎপাদিত তরমুজ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, বরিশাল, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলার যায়। প্রতি পিস তরমুজ উৎপাদনে ২৫ থেকে ৩০ টাকা ব্যায় হয়।
শহরের নিউ মার্কেট এলাকার উত্তম ফল ভান্ডারের খুচরা ফল বিক্রেতা পবিত্র চন্দ্র পাল বলেন, ৩-৪ কেজি ওজনের বাংলালিংক তরমুজ প্রতি পিস ২০০-২৫০ টাকা, ৫-৭ কেজি ৩৫০-৪০০ টাকা, ৮-১০ কেজি ৪৫০-৫৫০ টাকা এবং ১৫ কেজি ওজনের একটি তরমুজ ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
কলাপাড়ার মহিপুরের লতাচাপলী ইউনিয়নের মসলিয়াবাদ গ্রামের তরমুজ চাষি জাহাঙ্গীর মুসল্লি বলেন, এ বছর ৩ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন পর্যন্ত খেত বিক্রয় করিনি। গত বছর সাড়ে চার লাখ টাকায় খেত বিক্রি করেছি কিন্তু এ বছর আমার খেত ৩ লাখ টাকা বলছে। তাই বিক্রি করছি না।
তরমুজ খেতের পরিচর্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, তরমুজের মূল উপাদান হচ্ছে পানি। চাহিদা মতো পানির ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া সার ও ওষুধের ব্যবহার সম্পর্কে চাষিদের ভালো ধারণা থাকতে হবে। তরমুজ খেতের সঠিক পরিচর্যার কারণে তরমুজের আকার বড় হবে। আকার বড় হলে বাজারে মূল ভালো পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ তরমুজের বেপারী মোস্তফা হাওলাদার বলেন, কৃষকের মাঠ থেকে আমরা বাইট হিসেবে তরমুজ কিনে বড় আড়তে পাইকারী বিক্রি করি। এ বছর মাঠ থেকে ১ নম্বর তরমুজ শ’ প্রতি ১৪-১৫ হাজার টাকা, ২ নম্বর তরমুজ শ ’ প্রতি ১১-১২ হাজার টাকা, ৩ নম্বর তরমুজ শ’ প্রতি ৯ -১০ হাজার টাকা, ৪ নম্বর তরমুজের শ’ প্রতি ২০০০-২৫০০ টাকায় কিনেছি।
রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ এলাকার তরমুজ চাষি সাইফুল মৃধা বলেন, এবার পাচঁ কানি জমিতে তরমুজের আবাদ করেছি। আবহাওয়া ও সঠিক চাষাবাদে ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।
শহরের নিউ মার্কেট এলাকার আসলাম আড়তের আড়তদার মো. আসলাম বলেন, বাজারে তরমুজের আমদানি পর্যাপ্ত থাকলে দাম কমে। আর আমদানি কম থাকলে চাষিরা ভালো দাম পান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার পটুয়াখালীতে ১৩ হাজার ৭১৮ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এতে ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬৪ মেট্রিকটন তরমুজের ফলন হতে পারে। এবার রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কলাপাড়া ও বাউফল উপজেলায় তরমুজের আবাদ হয়েছে ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত বলেন, এবার পটুয়াখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজার দরও ভালো। কিছু জমি তরমুজ দেরিতে আবাদ হওয়ায় দেরিতে বাজারে আসবে।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/আরএআর/এমএস