রাঙ্গামাটি জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এএসআই নাছির উদ্দিনকে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ কুমিল্লা থেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় কাউসার নামে তার এক সহযোগিকেও আটক করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কাঠেরপুল এলাকা থেকে তাদের আটক করা হলেও তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নিয়ে বুধবার দুপুর পর্যন্ত চলে নানা নাটকীয়তা।
পরে দুপুরের দিকে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ইয়াবা পাচার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। নাছির উদ্দিন জেলার চান্দিনা উপজেলার দোতলা গ্রামের টেম্পোচালক নূরু মিয়ার ছেলে। তার সহযোগী কাউসার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বুধবার তাদেরকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবা পাচার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদরের কাঠেরপুল এলাকায় মঙ্গলবার রাতে থানা পুলিশের একটি দল টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে দুইজন ব্যক্তি দ্রুতগতিতে ঢাকা অভিমুখে যাচ্ছিলেন। এতে টহল পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাদের দেহ তল্লাশি চালিয়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়।
এ ব্যাপারে চান্দিনা থানা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, ইয়াবাসহ নাছিরকে আটকের পর প্রথমে তিনি পরিচয় গোপন রাখলেও গ্রেফতার এড়াতে পরে নিজেকে রাঙ্গামাটি ডিবির এএসআই হিসেবে পরিচয় দেয়। কিন্তু তিনি ডিবি পুলিশের এএসআই কি-না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকেসহ গ্রেফতারকৃত ২ জনকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পাঠানোর পরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ডিবিতে চাকরির অন্তরালে মাদক ব্যবসার নানা তথ্য বেড়িয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চান্দিনার দোতলা গ্রামের নূরু মিয়ার ছেলে নাছির উদ্দিন ২০০৬ সালে কনস্টেবল পদে পুলিশে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদে পদোন্নতি লাভ করে। তারপর থেকে রাতারাতি অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটতে থাকে তার। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ২টি গাড়ি, নতুন বাড়ি এবং অনেক জমি-জমা কিনেন মাদক ব্যবসায় জড়িত ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
কেরনখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর রশিদ জানান, পুলিশের এএসআই পদে চাকরি করে মাত্র ২ বছরের মধ্যে গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়ে যাওয়ার বিষয়টি যেন ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার মতো ঘটনা’। এখন বুঝা যাচ্ছে পুলিশে চাকরির আড়ালে তিনি (নাছির) জমজমাট মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, ইয়াবাসহ থানা পুলিশের হাতে আটক নাছিরের পরিচয়ের বিষয়টি রাঙ্গামাটি ডিবি থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, নাছির উদ্দিন পুলিশের কাছে যেসব তথ্য দিয়েছেন তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় মামলা হয়েছে।
কামাল উদ্দিন/এমএএস/এমএস