দেশজুড়ে

পিরোজপুরে পানিতে নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান

পিরোজপুর ও এর আশপাশের উপজেলায় পাকা-আধাপাকা ইরি-বোরো ধান পানিতে নষ্ট হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে ডুবে আছে অনেক ধানখেত।

পাকা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা। গত কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে ঠিকমতো ঘরে ধান তুলতে পারছেন না কৃষকরা। এ নিয়ে আতঙ্কে আছেন তারা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত বছর বোরো ধানের ফলন ও দাম ভালো থাকায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ধান চাষ হয়েছে পিরোজপুরে। এ বছর ধানের দামও ভালো।

এছাড়া ধানে কোনো রোগবালাই না থাকায় প্রত্যাশিত ফসলও জন্মেছে কৃষকদের খেতে। তবে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি আর ঝড়ের কারণে মাঠে পানি জমে নষ্ট হচ্ছে ধান। কোথাও কোথাও শুয়ে পড়েছে পাকা ধান। এতে ঘরে ধান তোলা নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা।

পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে ঠিকমতো ধান মাড়াই করা যাচ্ছে না। ফলে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে খেত থেকে কেটে আনা পাকা ধানের।

সদর উপজেলার জুজখোলা এলাকার ধান মাড়াইকারী মো. সালাম জানান, খেতের প্রায় সব ধান পেকে গেলেও প্রত্যাশিত ধান কাটা শ্রমিক না পাওয়ায় সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না চাষিরা। পাশাপাশি খারাপ আবহাওয়ার কারণে কিছুটা কমে গেছে ধানের দাম।

স্থানীয় কৃষক তাপস লালা জানান, পানির মধ্যে কাজ করতে বেশি কষ্ট হওয়ায় এবং বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে কেউ কাজ করতে না চাওয়ায় দৈনিক মজুরি ১০০-১৫০ টাকা বেড়ে গেছে। কিছু খেতে ধান পানিতে নষ্ট হচ্ছে।

নাজিরপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) নিতীশ কুমার হালদার বলেন, কৃষকরা যাতে নির্বিঘ্নে বোরো ধান সংগ্রহ করতে পারে সে বিষয়টি তদারকির জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হেনা মোহাম্মদ জাফর বলেন, পিরোজপুরের ৭টি উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ২০ হাজার ৪২৬ হেক্টর জমিতে। বোরোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা ছাড়িয়ে গেছে।

গত বছর জেলায় ১৯ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিলো। এ বছর প্রতি একর জমি থেকে ৯০-৯৫ মণ ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত এক সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া ধান কাটা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা কৃষকদের।

হাসান মামুন/এএম/জেআইএম