দেশজুড়ে

‘পরিবেশবাদী নেতা’র বিরুদ্ধে পাহাড় বিক্রির অভিযোগ

এক সময় ছিলেন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। সংগঠনের নিয়ম বহির্ভূত কাজ করায় অন্যরা অনাস্থা দিয়ে বের করে দেন। নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় এরপর গঠন করেন ইয়ুথ এনভাইরনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) নামে সংগঠন। পরিবেশ রক্ষার কথা বলে জেলার সমাজকর্মীদের সঙ্গে নেন। উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের করে নেন সভাপতির পদটি। পরিচয় দেন পরিবেশবাদী আইনজীবী সংগঠন ‘বেলা’র কক্সবাজার প্রতিনিধি। এটি প্রমাণ করতে বেলা’র প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট রেজওয়ানা হাসানের সঙ্গে তোলা বেশ কিছু ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের একাউন্টে ছড়ান।

পরিবেশের স্বার্থ রক্ষার কথা বলে অতীতে অনেকের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলাও করেছেন। এরপর থেকে নানা কর্ম-অপকর্মের জন্য জেলাবাসী তাকে চেনে পরিবেশবাদী নেতা হিসেবে। কিন্তু সেই পরিবেশবাদী নেতাই গোপনে পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি আর চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। পরিবেশ মামলার আসামি করার ভয় দেখিয়ে কিংবা মামলা থেকে বাদ দেয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

এছাড়া সদর এসিল্যান্ড, কক্সবাজার পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালকসহ নানা সরকারি কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে পাহাড়ে কিংবা খাস জমিতে বসবাসকারী বিভিন্নজনের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেছেন বলে লিখিত অভিযোগ রয়েছে সরকারি দফতরে।

এসব অপকর্ম উল্লেখ করে ‘পরিবেশবাদী নেতা’ কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের জুমছড়ি গ্রামের নুর আহমদের ছেলে ইব্রাহিম খলিল মামুনের (৩৫) বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কক্সবাজার শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আবদুর রহমান ও ভুক্তভোগী তিন সংবাদকর্মী এবং এক পর্যটন ব্যবসায়ী।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের অভিজাত এক রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবদুর রহমান বলেন, ইব্রাহীম খলিল মামুন নিজেকে পরিবেশবাদী নেতা বলে দাবি করে নানাভাবে মানুষকে হয়রানি করছে। নিরাপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করে চালানো হয় মানসিক ও আর্থিক নির্যাতন। মূলত এসব করার একমাত্র কারণ চাঁদাবাজি। তাকে চাঁদা না দিলে যে কোনো মিথ্যা অভিযোগে মামলায় জড়িয়ে দেয়। সরকারের নিবন্ধন না নিয়ে গঠিত অফিসবিহীন এ পরিবেশ সংগঠনের প্রধান নির্বাহী (সভাপতি) পরিচয় দিয়ে জেলাব্যাপী চাঁদাবাজী চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অনেক সময় নিজেকে পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বার্থ হাসিল করে নেয়। পরিবেশবাদী আইনজীবী সংগঠন বেলার কোনো কর্মচারি বা প্রতিনিধি না হয়েও বেলার জেলা এজেন্ট পরিচয় দিয়ে নানা সুযোগ সুবিধা আদায় করতে মানুষকে হয়রানি করে। বেলার নাম ব্যবহার করে তটস্থ রাখে পরিবেশ অধিদফতরকেও।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ। তার ভোটার আইডি নং–২২১৬৬১৯৭৭৩৯৬৯। এ আইডির ফটোকপি দিয়ে তিনি তার ভোগ দখলীয় পাহাড়ি জমি বিক্রি করেছেন। ধূর্ত এ মামুন তার আসল নাম বাদ দিয়ে নিজেকে ইব্রাহীম খলিল মামুন হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। এটাও মানুষ ঠকানোর তার আরেক কৌশল।

কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক সৈকতের সহকারী ব্যবস্থাপক কামাল উদ্দিন বলেন, বেলাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনস্বার্থের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। যেমন সরকারি ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি বিদ্যুৎ অফিসের ভবন নির্মাণে মামলা করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়ারও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এই মামুন।

তবে পরিবেশবাদী সংগঠন 'ইয়েস'র সভাপতি ও অভিযুক্ত ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, আমি পাহাড় বিক্রি করে থাকলে সেটা জেলা প্রশাসকের মালিকানাধীন। ব্যবস্থা নেয়ার হলে জেলা প্রশাসক আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। যারা এসব কথা ওঠাচ্ছে তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। যেই নারীকে আমি জমি বিক্রি করেছি বলে অভিযোগ করা হয়েছে তাকে আমি চিনি না। আসলে পরিবেশের স্বার্থ রক্ষায় অনেকের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা, আন্দোলন করেছি। এ কারণে তারা আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন বলেন, ইব্রাহিম খলিল মামুনের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ রয়েছে। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছে বলে আমাদের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। শিগগিরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস