কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে রাজস্ব আয়ে গতি বেড়েছে। এপ্রিল মাসে টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্যে ১১ কোটি ৩০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করেছে সংশ্লিষ্ট শুল্ক বিভাগ। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা।
টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এপ্রিল মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
কাস্টমস্ সূত্র জানায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের এপ্রিল মাসে ৩৮৯টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ১১ কোটি ৩০ লাখ ৬৪ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত। যার আমদানি মূল্য ৬৩ কোটি ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক এই বন্দরে এপ্রিল মাসে ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মাসিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অপরদিকে ৪৫টি বিল অব এক্সপোর্টের মাধ্যমে মিয়ানমারে ১ কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার টাকার পণ্য রফতানি করা হয়েছে।
এছাড়া শাহপরীরদ্বীপ করিডোরে ১১ হাজার ৯২৫টি গরু ও ১৯৫৭টি মহিষ বাবদ ৬৯ লাখ ৪১ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।
এদিকে, গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সমস্যার পর থেকে সীমান্ত বাণিজ্যে ধস দেখা দেয়। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক ভাটা পড়ে। যা পরবর্তী কয়েক মাস চলমান ছিল। রোহিঙ্গা ইস্যু স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসার পর চলতি বছরের শুরু থেকে রাজস্ব আয় ধীরে ধীরে সমান্তরালে চলে আসে। বর্তমানে সমস্যা কেটে উঠায় সীমান্ত বাণিজ্যে রাজস্ব আয়ে গতি ফিরেছে। এ অবস্থা বলবৎ থাকলে সীমান্ত বাণিজ্যে রাজস্ব আদায়ে উত্তরণ ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এপ্রিলে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি বেশি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্বও বেশি আদায় হয়েছে। পণ্য আমদানি ও রফতানি স্বাভাবিক থাকলে রাজস্ব আদায়ে গতি আরও ফিরবে।
সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/এমএস