দেশজুড়ে

লক্ষ্মীপুরে সড়ক সংস্কারের দাবিতে অবরোধ-ভাঙচুর

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সড়ক সংস্কারের দাবিতে অবরোধ করেছে বাস মালিক ও পরিবহন শ্রমিকরা। এ সময় একটি ট্রাকে ভাঙচুর চালায় শ্রমিকরা।

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রামগঞ্জ-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কের দশঘরিয়া এলাকায় এ অবরোধ করা হয়। এ সময় একটি ট্রাকের সামনে গ্লাস ভাঙচুর ও ঠিকাদারের প্রতিনিধি জুয়েলকে মারধর করে আটক করে রাখে উত্তেজিত লোকজন। পরে পুলিশ এসে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে।

এদিকে হঠাৎ অবরোধের কারণে বিপাকে পড়েছেন এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। এতে দুই পাশের লোকজনকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। অনেককেই হেঁটে ও অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশাযোগে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে দ্রুত সড়ক সংস্কার করা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফের অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন বাস চালক ও মালিক পরিবহন শ্রমিক নেতারা।

জানা গেছে, রামগঞ্জ-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কটিতে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে খানাখন্দগুলো পানিতে ডুবে আছে। এতে সড়কে বেড়েছে মৃত্যু ঝুঁকি। প্রতিনিয়ত বাস-সিএনজি চালকসহ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সম্প্রতি সড়কের দুই পাশের বর্ধিতকরণকাজ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়েস্টার ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স। তবে সড়ক সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয় বাস মালিক ও পরিবহন শ্রমিকরা। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা বর্ধিতকরণকাজের ঠিকাদারের প্রতিনিধি জুয়েলকে মারধর করে একটি দোকানের মধ্যে আটকে রাখা হয়।

চালক কালাম হোসেন বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়কে গাড়ি চালাতে হয়। সড়কে বের হলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। রাতে চলাচল করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়েস্টার ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্সের মালিক এসএম মনির হোসেন বলেন, আমাদের কাজ সড়কের দুই পাশে মাটি দিয়ে বর্ধিত করা। কাজের নির্দিষ্ট সময় এখনো শেষ হয়নি। সড়ক মেরামত কিংবা পাকাকরণ আমাদের কাজ নয়।

পরিবহন শ্রমিক আবুল কালাম জানান, রামগঞ্জ-ঢাকা সড়কের চাটখিল পর্যন্ত অসংখ্য ছোট-বড় গর্তে ভরা। একবার রামগঞ্জ থেকে ঢাকা গেলে গাড়ি পরদিন মেরামত করতে হয়। প্রতিদিনই ২-৪ টি গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের বারবার বললেও সড়ক সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোতা মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। শ্রমিকদেরকে শান্ত থাকার জন্য বলা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

কাজল কায়েস/এএম/পিআর