দেশজুড়ে

পঞ্চগড়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ওপর হামলার প্রতিবাদ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাবান্ধা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।

সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাব হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। স্থলবন্দরের আমদানিকারক-রফতানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা নীতিমালা অনুযায়ী স্থলবন্দর পরিচালনায় জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুদরত ই খুদা মিলনের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি সিন্ডিকেট চক্র দীর্ঘদিন ধরে স্থলবন্দরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের হয়রানি করছে। সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা ভারত এবং ভুটান থেকে আমদানিকৃত পাথর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রয় করতে বাধ্য করেন।

তারা বাধ্যতামূলক ক্রয়কৃত পাথর বেশি দামে বাইরে বিক্রি করেন। অতিরিক্ত লাভের অংশ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা। কোনো ব্যবসায়ী আমদানিকৃত পাথর সিন্ডিকেটে না দিলে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়। প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান মিলনের ভয়ে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এই চক্রের সঙ্গে প্রভাবশালী দলীয় নেতা ছাড়াও আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কয়েক জন নেতাও জড়িত। তাদের অপতৎপরতায় স্থলবন্দর ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থলবন্দরে ব্যবসায়িক পরিবেশ। নষ্ট হচ্ছে সম্ভাবনাময় এই স্থলবন্দরের ভবিষ্যৎ।

সোমবার মেসার্স আঁখি অ্যান্ড অপু ট্রেডার্স নামে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জয়নাল আবেদিনের প্রতিনিধি মোকছেদ আলীকে মারপিট করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। আহতাবস্থায় তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মকছেদ আলীর অপরাধ, তিনি সিন্ডিকেটের কথা না মেনে নিজের ইচ্ছায় বাইরে পাথর বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। এ ঘটনার পর ভারত ও ভুটান থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফএজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক মো. নাসিমুল হাসান নাসিম, মো. আলমগীর ইসলাম, খন্দকার আরিফ হোসেন, আনোয়ার হোসেন বাবুসহ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান কুদরত ই খুদা মিলন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে নিয়মনীতি মেনেই সবকিছু চলে। স্থলবন্দরের সিন্ডিকেট নিয়ে আমদানি ও রফতানিকারক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষরে রেজুলেশন করা রয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতিদিন খরচের জন্য ৩ হাজার পায় কর্মচারীরা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ গোলাম আজম বলেন, স্থলবন্দরে মারপিটের ঘটনা আমাদের জানা নেই। আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধের ব্যাপারে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি।

সফিকুল আলম/এএম/এমএস