দেশজুড়ে

জেলা প্রশাসক যখন শিক্ষক

সেমিনারের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক। অংশগ্রহণকারীরা প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ। সেমিনারের উদ্বোধন করে কোনো বক্তব্য দিলেন না জেলা প্রশাসক। হাতে তুলে নিলেন মার্কার, ডাস্টার। নিলেন আধ ঘণ্টার একটি ক্লাস। সেই ক্লাসেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পেলেন নতুন রসদ, নতুন অনুপ্রেরণা। অভিভূত হলেন সবাই। মঙ্গলবার যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হলো এ সেমিনার।

যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘ইংরেজি ভীতি দূরীকরণে শিক্ষকদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল। উদ্বোধনের পর তিনি বক্তব্য না দিয়েই সেমিনার কক্ষে হোয়াইট বোর্ড এনে হাতে তুলে নেন মার্কার, ডাস্টার।

তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, কারা ইংরেজি বলতে পারে; আর কারা পারে না? শিক্ষার্থীরা হাত তুলে সাড়া দেয়। এরপর জেলা প্রশাসক হিরা নামে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ডেকে নেন, যে হাত তুলেছিল, ইংরেজি বলতে পারে না বলে।

শিশুটিকে নিয়ে বোর্ডে কয়েকটি বাক্য লিখে ও চর্চার পর শিশুটিও বলে ফেললো কয়েকটি বাক্য।

এরপর জেলা প্রশাসক বললেন, হিরা বলেছিল, সে ইংরেজি বলতে পারে না। কিন্তু সেও ইংরেজি বললো। অর্থাৎ সঠিক শিখন ও চর্চা হলে সব শিশু ইংরেজি বলতে ও শিখতে পারবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ভয়-ভীতি ও জড়তার কোনো কারণ নেই। ইংরেজি অন্যতম একটি সহজ ভাষা। সঠিক পদ্ধতিতে শিখলে ও নিয়মিত চর্চা করলে সহজেই ইংরেজি শেখা যায়।

তিনি উল্লেখ করেন, আমরা চোখ দিয়ে ইংরেজি শেখার চেষ্টা করি। কিন্তু এটি ভুল টেকনিক। ইংরেজি শিখতে হবে কান দিয়ে। একটি শিশু জন্মগ্রহণের পর মা-বাবা, ভাই-বোনদের কাছ থেকে শুনে শুনেই বাংলা শেখে। বই বা ব্যাকরণ পড়ে নয়। তেমনি শ্রবণের মধ্যে দিয়েই ইংরেজিকে আয়ত্ত করতে হবে। এরপর লেখার জন্য চর্চা করতে হবে।

তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার্থীদের আনন্দের মধ্যে দিয়ে শেখাতে হবে। তাদের ভীতি, জড়তা দূর করতে হবে। তাদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলার চর্চা করতে হবে। তাহলে তারা সহজেই ইংরেজি শিখতে পারবে। এ সময় তিনি ইংরেজি বাক্যের একটি ‘স্ট্যাকচার’ উপস্থাপন ও ব্যাখ্যা করে বলেন, এ রকম ৯টি স্ট্যাকচার শিখলেই ইংরেজি সব বাক্য বলা ও লেখা যায়। পরবর্তীতে আরও সেমিনার করে শিক্ষকদের মাঝে এসব স্ট্যাকচার উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ইংরেজি এখন কোনো ভাষা নয়, এটি একটি টুলস। এর মাধ্যমেই এখন আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হবে। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের তিনি সেভাবেই গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের আহ্বান জানান।

ব্র্যাক যশোরের পার্টনারশিপ স্ট্রেনদেনিং ইউনিটের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন- ব্র্যাক যশোরের জেলা প্রতিনিধি ইদ্রীস আলম।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) দেবপ্রসাদ পালের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হুসাইন শওকত, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা’র যশোরের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম।

সেমিনারে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন যশোর সদর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের সুপার সুভাষ চন্দ্র বোস ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক কর্মকর্তা গৌর ঘোষ।

মিলন রহমান/এএম/জেআইএম