মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে বলায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের উত্তর গিদারী গ্রামের আলী আকবর খন্দকার ও অভি শেখ নামে দুইজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা দায়েরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, উত্তর গিদারী প্রধানের বাজার গ্রামের জয়নাল মিয়া, স্ত্রী ঠান্ডা রানী ও ছেলে কামাল হোসেন দীর্ঘদিন থেকে গাঁজা ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অনেক দিন থেকে কামাল হোসেনকে এলাকায় মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করে আসছিলেন আলী আকবর খন্দকার। পরে গত মাসের মাঝামাঝির দিকে এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধে স্থানীয় আরও কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে যান কামাল হোসেন।
এ ঘটনায় গত ২৯ এপ্রিল কামাল হোসেন আলী আকবর খন্দকারকে মারধরের ভয়ভীতি দেখান ও দেখে নেয়ার হুমকি দেন। পরদিন আলী আকবর খন্দকার গাইবান্ধা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এ ঘটনায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে কামাল হোসেন বিধবা বোন কামিনী বেগমকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি এজাহার দেন। পরে সে এজাহারের ভিত্তিতে তদন্তে গিয়ে বাদীর অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়নি সদর থানা পুলিশ। যার ফলে এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়নি। এরই জের ধরে কামাল হোসেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গত ৩ মে আলী আকবর খন্দকারকে মারধর করেন।
পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনার পরদিন আলী আকবর খন্দকারের বড় ভাই একরামুল হক খন্দকার কামাল হোসেনসহ সাতজনকে আসামি করে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণচেষ্টা মামলা থানায় দায়ের না হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে গাইবান্ধা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে (১) গিয়ে মামলা দায়ের করেন কামিনী বেগম। এ দিকে ২২ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত বৃহস্পতিবার বাড়ি ফেরেন আলী আকবর খন্দকার।
স্থানীয়রা আরও জানান, ঠান্ডা রানীর নামে ২০১২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার তেজগাঁও থানায় মামলা রয়েছে। যার নম্বর ২৫। এ ছাড়া কামাল হোসেনের নামে গাইবান্ধা সদর থানায় ৫টি মাদকের মামলা রয়েছে। যার জি. আর. নম্বর ৩২৮/১৪, ২১৬/১৮, ১২৬/১৮, ১৭৫/১৬ ও ১৬/১৮। এ ছাড়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামেও মাদকের মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে কামাল হোসেনের মুঠোফোনে বারবার ফোন করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে গিদারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোখলেছুর রহমান মিন্টু জাগো নিউজকে বলেন, কামাল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আলী আকবর খন্দকার এই মাদকের ব্যবসা বন্ধ করতে বলায় তাকে মারধর ও তার বিরুদ্ধে সাজানো ধর্ষণচেষ্টার মামলা করা হয়েছে।
রওশন আলম পাপুল/আরএআর/পিআর