দেশজুড়ে

নাটোরে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

নাটোরের নলডাঙ্গায় শরিফা আক্তার ছবি (৩২) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে শ্বশুরবাড়ির বাথরুম থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত ছবির পরিবারের দাবি- শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদ মিলে ছবিকে হত্যার পর বাথরুমে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে।

নিহত শরিফা আক্তার ছবি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কৈডিমা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে ও নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল গ্রামের প্রবাসী মিল্টন হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, ১১ বছর পূর্বে বড়াইগ্রাম উপজেলার কৈডিমা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে শরিফা আক্তার ছবির সঙ্গে নলডাঙ্গার পিপরুল শেখপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মিল্টন হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ছবির স্বামী মিল্টন তার চাকরির জন্য সৌদি আরবের রিয়াদে পাড়ি জমান। এরপর তাদের সংসার বেশ ভালোই চলছিল। পরবর্তীতে প্রায় প্রতিবছরই মিল্টন দেশে বেড়াতে আসতেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিনটি শিশু সন্তান রয়েছে। কিন্তু গত কয়েকবছর মিল্টন দেশে না আসায় তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে প্রায়ই ঝগড়া লেগেই থাকতো। এনিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে ছবির মাঝে মাঝেই ঝগড়া হতো। এতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করতো। বিষয়টি শরিফা আক্তার ছবি বেশ কয়েকবার তার বাবার বাড়ির লোকজনকে জানিয়েছে। তারা মীমাংস করেছে।

এভাবেই চলছিল তাদের সংসার। গত রাতে খাওয়া শেষে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে শরিফা আক্তার ছবি তার শোবার ঘরে চলে যান। এরপর শনিবার সকালে বাড়ির বাথরুমে গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় শরিফা আক্তার ছবির মরদেহ ঝুলতে দেখে পরিবারের লোকজন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালো পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিহত ছবির শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি- মোবাইল ফোনে কথা বলা শেষে কোনো এক সময় ছবি আত্মহত্যা করেছে। এর সঙ্গে তাদের পরিবারের কেউ জড়িত নয়।

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন খন্দকার জানান, বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় মেম্বার ও এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাথরুম থেকে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। তবে নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রেজাউল করিম রেজা/আরএআর/এমএস