পবিত্র রমজান মাসে ভালো নেই চাঁদপুরের বেদে পরিবারগুলো। নদীতে মাছের এবং রমজান মাসে অন্য কোনো কাজ না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। ডাকাতিয়া নদীর তীরে চৌধুরী ঘাট এলাকা ছাড়াও চাঁদপুর শহরের ৫নং খেয়া ঘাট, শেখের হাট, শাহতলী, রঘুনাথপুরসহ শহর ও তার বাইরে অনেক বেদে পরিবারের বসবাস। তারাও একইভাবে দিনযাপন করছেন।
চাঁদপুর শহরের প্রেসক্লাব ঘাট ও ১০নং চৌধুরী ঘাটে ডাকাতিয়া নদীর তীরে বেদে পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষই কর্মহীন বসে আছে। রোজা রেখে সিংগা লাগানোর নিয়ম না থাকায় তাদের রোজগারের পথও বন্ধ। আর রোদ-বৃষ্টির কারণে থালা-বাসনও ফেরি করতে যেতে পারছেন না।
অন্যদিকে নদীতে তেমন মাছ ধরা পড়ছে না, ফলে পুরুষদের অর্থ উপার্জনের সব পথ বন্ধ। আর এর মধ্যেই রোজা রাখছেন। কিন্তু কেমন কাটছে তাদের এই রোজার মাস, সে খবর রাখছে না কেউ। প্রতিদিন সাহরিতে ভর্তা, শাক, লতা-পাতা দিয়ে ভাত খেয়ে কোনো রকম রোজা পালন করছেন তারা।
চাঁদপুর ১০নং ও ৫নং ঘাটের বেদে পরিবারদের সর্দার আবদুল মালেক জাগো নিউজকে জানান, শহরের এই দুই স্থানে ২৭০ জন বেদে পরিবার রয়েছে। তারা এখানে থাকছে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে। কিন্তু সরকারিভাবে তাদেরকে কোনো সাহায্য সহযোগিতা করা হয় না। তবে ঈদসহ ধর্মীয় বিভিন্ন উৎসবে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র তাদেরকে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করেন। তাই বেদে পরিবারের ৮০ জন কার্ডধারী জেলে চাল পেয়ে থাকেন। বেদে জমিলা খাতুন বলেন, আমরা গরিব মানুষ, বেইন রাইতে বর্তা আর হাগ সবজি দিয়া ভাত খাই। বিয়াল বেলা পানি আর চাইরডা মুড়ি দিয়া ইপতার করি। আমরা মাছ গোছ এগুলা কই পামু বাবা।
কোরফুন্নেছা মনি ও শাহনাজ বেগম বলেন, রোজার মাসে আমরা ভালো নেই। রমজান মাসে রোজা রেখে সিংগা নিতে চায় না। তাছাড়া বৃষ্টি ও প্রচণ্ড রোদের কারণে থালা-বাসনও ফেরি কইরা বেছতে পারিনা। আর বেছতে গেলেও মানুষজন তা কিনতে চায় না। নদীতে তেমন মাছ ধরা পড়ছে না, এজন্য আমাদের আয় উর্পাজন নেই। অনেক কষ্ট করে সংসার চলে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকার এসব বেদে পরিবারগুলোর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
ইকরাম চৌধুরী/এফএ/জেআইএম