দেশজুড়ে

বরের আগেই কনের বাড়িতে হাজির ইউএনও

বর আসার আগেই কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের রহমান রাশেদ। তার হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেলো কাকলী আক্তার (১২) নামে এক স্কুলছাত্রী।

কাকলী আক্তার পার্শ্ববর্তী চরভদ্রাসন উপজেলার নয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ইসমাইল শেখের ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ইসমাইল শেখের ডাঙ্গী গ্রামের মো. মোজাহারের মেয়ে কাকলী আক্তারের সঙ্গে জেলার নগরকান্দা উপজেলার মশালজোন গ্রামের মোসলেমের ছেলে পলাশ হোসেনের (২৮) বুধবার বিকেলে বিয়ের দিন ধার্য ছিল। বরপক্ষ কনের বাড়িতে হাজির হওয়ার আগেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ২টার দিকে কনের বাড়িতে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে কনে কাকলী আক্তারের জন্ম সনদ দেখে বয়স কম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেন ইউএনও জোবায়ের রহমান রাশেদ।

এ সময় তিনি বর পক্ষকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কনের বাড়িতে আসতে নিষেধ করে দেন। পরে ভাষানচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোকলেস শেখ ও স্থানীয় কাওসার শেখ কাকলী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেয়া হবে না মর্মে ইউএনওর কাছে মুচলেকা দেন। এ সময় সদরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন আহম্মেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জোবায়ের রহমান রাশেদ বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে ভাষানচর ইউনিয়নের ইসমাইল শেখের ডাঙ্গী গ্রামে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হই। কনে কাকলী আক্তারের বিয়ের বয়স না হওয়ায় বিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আরএআর/জেআইএম