নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।
চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামকে (২২) গ্রেফতার করতে গেলে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বড়াইগ্রাম পৌরসভার জলন্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশের এএসআই শিবলু রহমান এবং এএসআই মতিউর রহমানকে বড়াইগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে স্থানীয় জমসেদ আলী, জাহিদুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান, ইদ্রিস আলী, বাসেদা বেগম, রিক্তা খাতুন ও পিয়া খাতুনের নাম জানা গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জলন্দা গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে যায় এএসআই শিবলু রহমান এবং এএসআই মতিউর রহমান। তাদের বাড়িতে গিয়ে জাহিদুলকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসতে চাইলে তার বাবা জমসেদ আলী বাধা দেয়।
সেই সঙ্গে জমসেদ ও জাহিদুল ভুয়া পুলিশ বলে চিৎকার করতে করতে তাদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশের পোশাক না থাকায় প্রতিবেশীরা এসে হামলায় যোগ দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে এএসআই শিবলু মোবাইল ফোনে বিষয়টি থানায় জানালে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। একই সঙ্গে গ্রামে গণগ্রেফতার শুরু করে পুলিশ। এ সময় সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে জখম করা হয়। সেই সঙ্গে প্রতিবেশী নিরপরাধ লোকদের গ্রেফতার করা হয়।
জলন্দা গ্রামের সাবেক পুলিশ সদস্য মকবুল হোসেন, ওসুধ ব্যবসায়ী মাহাবুবুল হোসেন ও গৃহবধূ আখি বেগম জানান, জাহিদুলের বাড়িতে পুলিশের সঙ্গে কী হয়েছে আমরা জানি না। কিন্তু পুলিশ হঠাৎ গোটা গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে নারী-পুরুষ সবার ওপর লাঠিচার্জ করেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রাণভয়ে দৌড়ে পালিয়ে রক্ষা পেয়েছেন তারা।
সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার দাস বলেন, তাৎক্ষণিক পুলিশি অভিযানে অনেককে আটক করা হয়েছে। এখন তাদের যাচাই-বাছাই চলছে। নিরাপরাধ ব্যক্তিদের ছেড়ে দেয়া হবে। বাকিদের নামে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি দিলিপ কুমার দাস।
রেজাউল করিম রেজা/এএম/জেআইএম