দেশজুড়ে

পদ্মার ভাঙনে হুমকির মুখে সড়ক

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়কটি পদ্মা নদীর ভাঙনের হুমকির মুখে। সড়কটির এমপি ডাঙ্গী এলাকা থেকে পদ্মার দূরত্ব মাত্র ১২ গজ।

ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় অর্ধশত বছরের পুরনো সড়কটির ওই অংশ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে সড়কের পাশে বসবাসরত বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন।

জানা যায়, উপজেলা সদরের এমপি ডাঙ্গী গ্রামের প্রধান সড়ক ঘেঁষে পদ্মা নদীর ভাঙন রোধের জন্য গত দুই বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করে ফরিদপুরের পাউবো। এ প্রকল্পে তিন দফায় মোট ২৬ হাজার ১৩০টি জিওব্যাগ পদ্মা পাড়ে ডাম্পিং করা হয়। কিন্তু পাউবো’র সবকটি পদ্মা রক্ষা বাঁধ প্রকল্প বিলীন করে আগ্রাসী পদ্মা প্রধান সড়ক ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় সড়কটি বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে।

পদ্মা পাড়ের বসতি ওয়াছেল উদ্দিন শিকদার বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে যেভাবে পদ্মা নদীতে স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে তাতে এই মুহূর্তে ভাঙন প্রতিরোধক ব্যবস্থা না নিলে উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

এমপি ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ইছাহাক শেখ জানান, বছর ভরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পদ্মার পাড় এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছেন। কিন্তু এলাকায় কোনো কাজ হয়নি।

চরভদ্রাসন সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাদ খান জানান, উপজেলা সদরের এমপি ডাঙ্গী গ্রামে পদ্মা পাড়ের অবস্থা সম্পর্কে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। পদ্মার ভাঙনে প্রধান সড়ক বিলীন হলে আশপাশের স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা ও ঘরবাড়ি কিছুই থাকবে না।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, চরভদ্রাসন উপজেলা সদরে আড়াই কি.মি. পদ্মা পাড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ৩৩৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি পাস হলে আগামী শীত মৌসুমে উপজেলা ভাঙনকবলিত পদ্মা পাড়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা সদরের এমপি ডাঙ্গী গ্রামের পদ্মা পাড়ের সড়কটি হুমকির মুখে রয়েছে। তবে এখনও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

এএম/জেআইএম