যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী বিজলি খাতুন হত্যার ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি।
এক সপ্তাহ আগে তাকে হত্যার পর লাশ হাসপাতাল মর্গে রেখে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায় বলে তার পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় স্বামী সেলিম বিশ্বাসসহ পাঁচ আসামির কেউই আটক হয়নি। তবে পুলিশের দাবি, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
নিহত বিজলি খাতুন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নাটোপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম খানের মেয়ে ও যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সলুয়া গ্রামের নজরুল বিশ্বাসের ছেলে সেলিম বিশ্বাসের স্ত্রী।
বিজলিকে হত্যার অভিযোগে গত ৩ জুলাই বাঘারপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন সাইফুল ইসলাম খান। মামলার আসামিরা হলেন, নিহত বিজলির স্বামী সেলিম বিশ্বাস, সেলিমের বাবা নজরুল বিশ্বাস, চাচা ফারুক বিশ্বাস, মাতা মাজু বিবি ও ভাই সোহাগ বিশ্বাস।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আনুমানিক তিন বছর আগে সেলিম বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ে হয় বিজলি খাতুনের। তাদের এক বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে সেলিমসহ আসামিরা যৌতুকের দাবি করতো। বিভিন্ন সময়ে যৌতুক বাবদ আড়াই লাখ টাকাসহ সর্বমোট দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও ৭০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র দেয়া হয়েছে।
গত ১ জুলাই আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে মোবাইল ফোনে বিজলির সঙ্গে কথা হয় তার মায়ের। এসময় বিজলি মাকে জানায়, আসামিরা পুনরায় যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতন করেছে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেলিম শ্বশুরকে ফোনে জানায়, বিজলি গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে যশোর সদর হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে বিজলির বড় ভাই শাহিনুর রহমানকে বিষয়টি জানায় তার বাবা।
রাত ৮টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে আসামিদের কারও পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে বিজলির ভাই ও বাবা জানতে পারে লাশ মর্গে আছে। সেখানে গিয়ে তারা লাশ সনাক্ত করেন। চিকিৎসক তাদেরকে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই বিজলি মারা গেছে। আসামিরা লাশ মর্গে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
নিহত বিজলির বড় ভাই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্স্টাসের শিক্ষার্থী শাহিনুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে বিজলিকে বিয়ে করে সেলিম। তিন বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিজলিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। তারপরও লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল সে। কিন্তু সেলিম চাইতো না পড়াশুনা করুক বিজলি। কারণ সেলিম কোনো রকমে এইচএসসি পাস। আর বোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুক এটা সে মেনে নিতে পারতো না।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের পর থেকে ওদের সংসারের খরচ আমি টিউশনি করে দিতাম। যখন যা চেয়েছে আমরা দিয়েছি। শ্বশুর বাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার বোনকে হত্যা করেছে। ওরা লাশ মর্গে ফেলে রেখে পালিয়েছে। ছোট্ট বাচ্চাটি কোথায় রেখেছে জানি না। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে বাঘারপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম জানান, ওই ঘটনায় হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মিলন রহমান/এমএএস/জেআইএম