দেশজুড়ে

৪ দিন বন্ধ থাকার পর যশোরে ইজিবাইক চলাচল শুরু

অবশেষে চারদিন পর যশোরে ইজিবাইক চলাচল নিয়ে অচলাবস্থা কাটলো। সোমবার দুপুরে জেলা রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (আরটিএ) সমন্বয় কমিটির জরুরি সভায় এ সঙ্কট নিরসন হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে শহরে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ইজিবাইক চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেবপ্রসাদ পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শওকত হুসাইন, বিআরটিএ যশোর সার্কেল অফিসের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) কাজী মো. মোরসালিন, প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ আরটিএ সমন্বয় কমিটির সদস্যবৃন্দ।

সভা শেষে কালেক্টরেট চত্বরে সমবেত হওয়া চালকদের উদ্দেশ্যে সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল। তিনি বলেন, যশোর শহরে চলাচলের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ২৭০০ ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্তরা আপাতত শহরে চলাচল করতে পারবে। এখন থেকে লাইসেন্স ছাড়া কোনো ইজিবাইক শহরে চলাচল করতে পারবে না।

তিনি বলেন, শহরের যানজট নিরসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের চলাচলের ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ কমিটি তাদের সুপারিশ প্রেরণ করবে। কমিটির সুপারিশের আলোকে যানজট নিরসন ও যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু জানান, পৌর এলাকায় পাকা, কাঁচা, আরসিসি, সোলিং মিলিয়ে মোট ২২৫ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। প্রতি কিলোমিটারের জন্য ১৫টি সাধারণ যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান করা হলে যশোর পৌরসভায় মোট ৩ হাজার ৩৭৫টি লাইসেন্স ইস্যু করতে পারে। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০ ইজিবাইকের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু শহরে প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ হাজার লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক চলাচল করে। যা যানজট সৃষ্টির মূল কারণ।

সম্প্রতি মাইকিং করে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইক চালকদের পৌরসভা থেকে স্মার্টকার্ড নেয়ার জন্য বলা হয়। এরপরই গত ৫ জুলাই প্রশাসনের নামে শহরে মাইকিং করে সব ধরনের ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়। এতে অন্তহীন দুর্ভোগে পড়েন শহরে চলাচলকারীরা।

মিলন রহমান/এএম/এমএস