বগুড়ার শাজাহানপুরে মুক্তিপণের ৫ লাখ টাকা না পেয়ে রাকিবুল হাসান রিফাত (৮) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার দুপুরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে উপজেলার পোয়ালগাছা গ্রামে ভদ্রাবতী নদীর সিংহবাড়ি সেতুর নিচে কচুরিপানায় ঢাকা অবস্থায় তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রিফাতের লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
রিফাত শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। এর আগে রোববার সন্ধ্যার পর বাড়ির কাছ থেকে সে নিখোঁজ হয়েছিল। সোমবার সকালে এক লোক তার বাড়িতে ফোন করে রিফাতকে অপহরণের কথা জানায় ও মুক্তিপণ দাবি করে।
পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে থানায় আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটপাড়া গ্রামের এনামুল হক দীর্ঘদিন ধরে কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। কিছুদিন আগে দেশে ফিরে খাদাস বাজারে ব্যবসা শুরু করেন। তার দুই ছেলের মধ্যে রিফাত বড়। সে স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়তো।
রোববার (১৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে বাজারে তাদের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে রিফাত নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন সোমবার সকালে এক ব্যক্তি এনামুলকে ফোন করে তার ছেলে রিফাতকে অপহরণের কথা জানায়। তারা মুক্তির বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু কোথায় এই টাকা পাঠাতে হবে তা জানায়নি।
নিহত শিশুর বাবা এনামুল হক সাংবাদিকদের জানান, রোববার আলতাফ আলীর ছেলে আবুল কালাম আমার কাছে এক লাখ টাকা ধার চেয়েছিল। ওইদিন সন্ধ্যার পর আমার ছেলে অপহৃত হয়েছিল। আমার ধারণা, টাকা ধার না দেয়ার কারণেই আমার সন্তানকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শাজাহানপুর থানা পুলিশের ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তিপণের টাকা না পেয়েই দুর্বৃত্তরা শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয়। শিশুর বাবার দেয়া তথ্য মাথায় রেখে তদন্ত কাজ চলছে।
তিনি বলেন, শিগগিরই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে। লাশ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবুল কালামসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
লিমন বাসার/এএম/পিআর