দেশজুড়ে

কক্সবাজারে কমেছে পাস ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কক্সবাজারে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তি কমেছে। আলিমে গত বছরের চেয়ে পাসের হার সামান্য বৃদ্ধি পেলেও এখানেও কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তি। অনেক উপজেলার মাদরাসাতে একজনও জিপিএ-৫ পায়নি। সব মিলিয়ে এইচএসসিতে ফল বিপর্যয় ঘটেছে বলা যায়। ফলাফল প্রকাশের পর হতবাক হয়েছে অনেক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক।

ফলাফল বিপর্যয়ের মাঝেও জেলার ২৩টি কলেজের মধ্যে আবারও শ্রেষ্ঠত্বের আসন ধরে রেখেছে কক্সবাজার সরকারি কলেজ। এ কলেজ থেকে ৯২২ জনে পাস করেছে ৮৩৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে বিজ্ঞানে ২৩ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ৮ জন এবং মানবিকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জেলায় ১০ হাজার ৪২৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ছয় হাজার ৪২৭ জন। অকৃতকার্যের তালিকায় উঠেছে তিন হাজার ৯৭৮ জনের নাম। আর গড় পাসের হার ৬১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। যদিও এটি গত বছরের তুলনায় ছয় দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। গত বছর উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ৩২ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফলাফলে জেলার ২৩ কলেজ থেকে চার হাজার ৫৩২ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে দুই হাজার ৭২৪ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৬০ দশমিক ১১ শতাংশ। আর পাঁচ হাজার ৮৯১ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে তিন হাজার ৭০৩ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৬২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা।

আলিমে জেলায় পাসের হার ৮২ দশমিক ৬১ শতাংশ। দুই হাজার ৩৯৩ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে এক হাজার ৯৭৭ জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৪১৬ শিক্ষার্থী। আর আলিমে জিপি-৫ পেয়েছেন মাত্র ৮ জন।

এদিকে, ২০ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত অকৃতকার্য ও জিপিএ কম আসা পরীক্ষার্থী খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে বলে শিক্ষা বোর্ড সূত্র। এবারের ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের চরম ফল বিপর্যয় হয়েছে যা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য চরম হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে। আর অতিমাত্রায় ফেসবুক আসক্তি এবং সৃজনশীল পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের ভীতি দূর না হওয়ায় ফল বিপর্যয় হয়েছে বলে ধারণা করছেন সচেতন অভিভাবকগণ।

সায়ীদ আলমগীর/বিএ