পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ ডিলুর অনুসারী এবং পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রতনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে তিন ইউপি চেয়ারম্যনসহ ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদের কাছে বন্দে আলী মিয়া হাইস্কুল প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ভূমিমন্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাকে পুলিশ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে বয়স্কভাতা বিতরণ এবং বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়। দুটি অনুষ্ঠানেই ভূমিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুর রহমান শরিফ ডিলু ছিলেন প্রধান অতিথি। প্রথম পর্যায়ে উপজেলা পরিষদে বয়স্কভাতা বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী উপজেলা পরিষদের কাছেই কবি বন্দে আলী মিয়া হাইস্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যান।
দুপুর পৌনে ১টার দিকে মন্ত্রী ফিতা কেটে বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করেন। এ সময় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ ডিলুর অনুসারী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম রতন গ্রুপের মধ্যে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং পরে তা তুমুল সংঘর্ষে রুপ নেয়। সংঘর্ষে তিনজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় মন্ত্রী প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত তাকে সরিয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী রেস্ট হাউসে নিয়ে যায় এবং পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে মন্ত্রী আটঘরিয়া ত্যাগ করেন।
আটঘরিয়া পৌর মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রতন জানান, উপজেলায় বয়স্কভাতা বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি মন্ত্রীকে নিয়ে কবি বন্দে আলী মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করতে যান। দুপুর ১টার দিকে মন্ত্রী ফিতা কেটে মেলার ভেতর প্রবেশ করছিলেন। এ সময় মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন এবং চাঁদভা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নকশাল ও বিএনপি জামায়াতের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তার সমর্থিত ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের সঙ্গে পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মালেকও অংশ নেন। এ হামলার কারণে স্থানীয় জনসাধারণ এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা পাল্টা জবাব দিলে সংঘর্ষ বাধে।
মাজপাড়া ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবলীগের এক নেতা জানান, মন্ত্রীর সামনে তার লোকজন প্রথমে রতনের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে মন্ত্রীর সামনেই তার সমর্থকদের ব্যাপক মারপিট করে। এ সময় মন্ত্রীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, কামাল হোসেন এবং আব্দুল গফুরসহ ১০ নেতাকর্মী আহত হন।
আটঘরিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্লোগান দেয়া নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়। তবে বড় ঘটনা ঘটার আগেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
একে জামান/আরএআর/জেআইএম