তৃতীয়দিনের মতো রোববারও বেনাপোল থেকে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে না যাওয়ায় ভারত ফেরত শতশত যাত্রী বেনাপোলে আটকা পড়েছেন। সেই সঙ্গে কাউন্টারে রাত কাটছে যাত্রীদের।
অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটে যাত্রীরা শুয়ে-বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারে। সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগী ও ভারতীয় যাত্রীরা। যাত্রীরা না যেতে পারছেন ঢাকায় না পারছেন ভারতে ফিরে যেতে। নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন তারা। গত তিনদিনে ভারত থেকে ফিরে যাত্রীদের কেউ কেউ বিকল্প পথে চলে গেছেন। আর যাদের কাছে টাকা নেই তারা বেনাপোল পাঠবাড়ী আশ্রম ও পরিবহন কাউন্টারে অবস্থান করছেন।
বেনাপোল পরিবহন শ্রমিক সংস্থার সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, সড়ক থেকে ছাত্ররা সরে না যাওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রাখা হবে। বেনাপোল থেকে প্রতিদিন দূরপাল্লার ৭০টি বাস চলাচল করে। শুক্রবার দিনে বাস না চললেও কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাতে কয়েকটি বাস ছাড়া হয়। তবে শনিবার রাতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় বাস ছাড়েনি। এতে বেনাপোল থেকে ঢাকা চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশালসহ অন্তত ১২টি রুটে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
নাভারণ সাতক্ষীরা মোড়ের সময় নিয়ন্ত্রক মশিয়ার রহমান বলেন, আন্তজেলার মধ্যে চলাচলকারী বেনাপোল-যশোর ও যশোর-সাতক্ষীরা রুটের বাস চলাচল তিনদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে যশোর সাতক্ষীরায় যাতায়াতকারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। তারা প্রাইভেট, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, জেএসএ, ভ্যান ও নসিমন ব্যবহার করে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
বেনাপোল হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার তৌহিদুর রহমান বলেন, সড়কে নিরাপত্তার অভাবে বাস ছাড়া যাচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই বাস ছাড়া হবে।
ঈগল পরিবহনের বেনাপোল অফিসের ব্যবস্থাপক এম আর রহমান রাশু বলেন, দূরপাল্লার সকল বাস বন্ধ রয়েছে। এতে ভারত ফেরত পাসপোর্টযাত্রীরা পড়েছেন দুর্ভোগে। তারা পরিবহন কাউন্টারে অলস সময় কাটাচ্ছেন। অনেক যাত্রী কাউন্টারে টিকিট ফেরত দিয়ে বিকল্প পথে গন্তব্যে গেছেন।
শনিবার ভারত থেকে ফেরা চট্টগ্রামের বিনয় চক্রবর্তী বলেন, রাতে বাস না ছাড়ায় বাধ্য হয়ে কাউন্টারে ছিলাম। কখন বাস ছাড়বে কেউ বলতে পারছে না। তাই ট্রেনে যাওয়ার জন্য যশোর যাচ্ছি।
মো. জামাল হোসেন/এএম/আরআইপি