তীব্র জোয়ারের পানির চাপে খোলপেটুয়া নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙে ১৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১৪টি গ্রামের ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ভেঙে গেছে প্রায় ৭০০ মাটির তৈরি ঘরবাড়ি। ভেসে গেছে পাঁচ হাজার বিঘা মৎস্য ঘের। তবে সরকারিভাবে এখনও বাঁধটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। পানির চাপে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল জানান, সোমবার দুপুরে খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের পানির চাপে থানাঘাটা এলাকায় বাঁধটি আবারো নতুন করে ভেঙে যায়। এতে প্লাবিত হয়েছে মাড়িয়াড়া, হাজরাকটি, থানাঘাটা, বকচরা, বিল বকচর, মহিশকুড়, বুড়াগারাটি, পুইজালা, বালিরচক, লক্ষ্মীখালি, বয়েরসিং, লাঙ্গলদাড়িয়া, রাজারাটি ও বানিয়াখালি গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ।
তিনি আরও জানান, গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাঁধটি ভেঙে গেলে স্থানীয়ভাবে লোকজন নিয়ে সংস্কার করা হয়। তবে সেটি আবারও ভেঙে গেছে। মানুষের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, ফসলি জমি সবকিছুই তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিক বার জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। চারিদিকে মানুষের মাঝে আহাকার নেমে এসেছে। ইতিমধ্যে ৭০০ পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
আবু হেনা শাকিল বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম হোসেন ও নির্বাহী অফিসার মাশরুফা বেগম ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখেছেন। জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
প্লাবিত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম সরোয়ার জানান, খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী মানুষের দুঃখের শেষ নেই। কখনো রাতের আধারে আবার কখনো দিনের আলোতে আমাদের গৃহহীন হতে হয়। বাঁধ ভেঙে এলাকায় পানি প্রবেশ করে মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু বদলে যায়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. ইফতেখার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সচিবকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জেলা প্রশাসন আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আকরামুল ইসলাম/আরএআর/আরআইপি