দেশজুড়ে

নাটোরে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ-ভাঙচুর

নাটোরের বড়াইগ্রামে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোকসভায় অংশগ্রহণ করতে আসা নেতাকর্মীদের ওপর দলীয় প্রতিপক্ষের হামলায় কমপক্ষে ১০ জন আহত ও ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার বিকেলে বড়াইগ্রাম পৌরসভা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে সাতজনকে বড়াইগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌরসভা চত্বরে পৌর যুবলীগের উদ্যোগে শোকসভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এই শোকসভায় যোগদানের জন্য মোটরসাইকেল শোডাউন দিয়ে যাচ্ছিল জোনাইল ও চান্দাই ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। উপজেলার রোলভা এলাকায় আসলে অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি সমর্থিত সাইফুল ইসলাম মেম্বারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন যুবক লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

এ ঘটনায় চান্দাই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান জিন্নাহ, চান্দাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ইন্তাজ, জোনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সহ-সভাপতি মাহতাব উদ্দিন মাস্টার, আওয়ামী লীগ কর্মী নজু খাঁ, ইসরাইল হোসেন, মেহেদী হাসান, মমিন আলী, ফরহাদ হোসেন ও যুবলীগ নেতা মিন্টু আহত হন। আহতদের মধ্যে সাতজনকে বড়াইগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী অভিযোগ করে বলেন, এমপি কুদ্দুসসের নির্দেশে সাইফুল বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের মোবাইল নম্বরে কল দিলে তার ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মাদ ইব্রাহীম ফোন রিসিভ করে বলেন, স্যার এখন ব্যস্ত আছেন। সেখানে কুদ্দুস সমর্থকদের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম হামলার দায় অস্বীকার করে বলেন, কারা হামলা করেছে তা আমি জানি না।

বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের ওসি দিলিপ কুমার দাস বলেন, একপক্ষের হামলায় অপরপক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। ৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত।

রেজাউল করিম রেজা/এএম/আরআইপি