দেশজুড়ে

নীলফামারীতে গরিবের ৫ মেট্রিকটন চাল আটক

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নীলফামারী জেলায় এবার ৪ লাখ ৪ হাজার ৩১৫ জন অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য কার্ডপ্রতি ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে বর্তমান সরকার। কিন্তু এই চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম আর কারসাজির অভিযোগ উঠেছে জেলাজুড়েই।

অভিযোগ বেশ কিছু ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় চলছে চাল বিক্রি। মোট বরাদ্দের অর্ধেক কার্ডের চাল দুস্থ পরিবারের ভাগ্যে জুটবে কীনা এ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্যদের কার্ড বন্টনে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে নারী সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ দিকে বৃহস্পতিবার বিকেল হতে রাত ৯টা পর্যন্ত ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ি ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে পাচারকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. উম্মে ফাতেমা ৮৮ বস্তায় চার দশমিক ৮ মেট্রিক চাল বস্তাসহ উদ্ধার করেছেন। এর আগে ৯ আগস্ট রাতে ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী বাজারে ভিজিএফের ২৪৬ বস্তা চালসহ একটি ট্রাক্টর আটক করে স্থানীয় লোকজন। আটক ওইসব চাল জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ ছিল। এই চালগুলো এখনও ডোমার থানায় পড়ে রয়েছে। এই চালের ভবিষ্যত কি এ নিয়ে রহস্য থেকে গেছে।

এদিকে জোড়াবাড়ি ইউনিয়নে ভিজিএফের চার দশমিক ৮ মেট্রিক চালের মধ্যে উক্ত ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আফজাল হোসেনের বাড়ির ঘর হতে ৬৫ বস্তা চাল উদ্ধার করে। এর মধ্যে ৫০ কেজি ওজনের ৪৬ বস্তা ও ৩০ কেজি ওজনের ১৯ বস্তা। এরপর মিরজাগঞ্জ স্টেশনপাড়া গ্রামে আলতাব হোসেনের গুদম ঘর হতে ৫০ কেজি ওজনের ৮ বস্তা ও ৩০ কেজি ওজনের ৬ বস্তা, ইউনিয়ন পরিষদ পাড়ার তরিকুল ইসলামের ভাড়া করা গুদাম হতে ৮০ কেজি ওজনের ৬ বস্তা ও ৫০ কেজি ওজনের ৩ বস্তা চাল উদ্ধার করে ইউএনও। সেই সঙ্গে জোড়াবাড়ি ইউনিয়নের গুদাম ঘর সিল করে দেয়া হয়। অপরদিকে সৈয়দপুর উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে চাল বিতরণে অনিয়ম করা হচ্ছে কৌশলে। ভিজিএফ কার্ড বিতরণের সময় চাল পেলে অর্ধেক (১০ কেজি) এ শর্তে কার্ড দেয়া হয়েছে অনেককে। বৃহস্পতিবার চাল বিতরণে ২০ কেজির পরিবর্তে অর্ধেক চাল দেয়ার অভিযোগে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বজলুর রশীদ সরেজমিনে গিয়ে তা হাতে নাতে ধরে ফেলেন। এরপর কম পাওয়া ওই কার্ডধারীদের তার প্রাপ্য ২০ কেজি করে চাল প্রদানে বাধ্য করায় জনপ্রতিনিধিদের। সরেজমিনে জেলার একাধিক ইউনিয়নে দেখা গেছে, চাল বিতরণে হযবরল অবস্থা। ডোমারে সোনারায় ইউনিয়নে নাম তালিকাভুক্তি ছাড়া রেজিস্ট্রার খাতায় একজনের কাছে ৫টি টিপসই নিয়ে ১০০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে। জোড়াবাড়ী ইউনিয়নে ৫টি আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা নিয়ে প্রতিজনকে দেয়া হচ্ছে ১শ কেজি চাল। নেই কোনো বিতরণের রেজিস্ট্রার।

এলাকাবাসী জানায়, ওই চালগুলো কোনো কার্ডধারীর নয়। জনপ্রতিনিধিরা ওই চাল কার্ডের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা তাদের লোকদের মাধ্যমে ওই চাল উত্তোলন করছে। চাল পাচারে এখন এই কৌশল নিয়েছে জনপ্রতিনিধিরা।

এ ব্যাপারে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন জানান, কোনো প্রকার অনিয়ম যাতে না হয় এ ব্যাপারে সব ইউএনও ও পিআইওদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরও কোনো অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

জাহেদুল ইসলাম/এমএএস/এমএস