সপ্তাহিক ছুটি মিলে এবারও ঈদে টানা ৫ দিনের ছুটি। সরকারি চাকুরেদের পরিবারে এ টানা ছুটি ঈদের আনন্দের মাত্রা বাড়িয়েছে। টানা এই ছুটিকে কাজে লাগাতে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে আনন্দ ভ্রমণের পরিকল্পনাও এটেছেন। তবে ভোগান্তি এড়াতে ইতোমধ্যে অনেক ভ্রমণ পিপাসু নিরাপদ অবকাশ যাপনে বুকিং দিয়েছেন হোটেল-মোটেল-কটেজ কক্ষ। এতে পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা হওয়ার ইঙ্গিত পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কিছু বুকিং ২১ আগস্ট থেকে শুরু হলেও অধিকাংশই ২৩ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্টের জন্য বুকিং দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ।
এ ঈদ চলতি অর্থবছরের পর্যটন মৌসুমের যাত্রা হিসেবে ধরছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের বিপণন বিভাগের ইনচার্জ ইমতিয়াজ সোমেল বলেন, শহরের যান্ত্রিক জীবনে বন্দি মানুষগুলো সুযোগ পেলেই ভ্রমণে বের হন। কোরবানির ঈদেও টানা ছুটির সুযোগ আসায় অনেকে ইতোমধ্যে হোটেলের ৮০-৯০ শতাংশ রুম আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। ঈদের পরেরদিন থেকে সপ্তাহিক ছুটির শেষ দিন পর্যন্ত সৈতকপারের সকল হোটেল পূর্ণ বুকিং থাকবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করা যায় এ ছুটি দিয়েই এ বছরের পর্যটন মৌসুমের যাত্রা হবে।
কক্সবাজার ট্যুরস অপারেটর মালিক অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিমের মতে, শরতের বৃষ্টি ভদ্রই বলা যায়। এই আছে এই নেই। আকাশে মেঘ-রুদ্দুর লুকোচুরি খেলা থাকলে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের চিত্র আরও মোহনীয় হয়ে উঠে। এ কারণে কোরবানির ঈদে পর্যটকে টৈ টম্বুর হতে পারে বালিয়াড়ি। তবে সেন্টমার্টিনগামী কোনো জাহাজ ছাড়ার সম্ভাবনা না থাকায় প্রবালদ্বীপ ঘুরে আসার সুযোগ থাকছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ অতিথি বরণে হোটেল-মোটেলগুলো সাজানো হচ্ছে। সবকিছুতেই যেন বাড়তি মনোযোগ। অনেকে হোটেলের ব্যবহারে জিনিসপত্র ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করছেন। পর্যটক যেমনই আসুক সব পর্যটন স্পটগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ। নিরাপত্তা জোরদারে স্পটে স্পটে সর্তকতা মূলক সংকেত ও সাইনবোর্ড লাগানো হচ্ছে।
হোটেল মালিকদের মতে, সৈকত শহরে সব মিলে হোটেল মোটেল রয়েছে চার শতাধিক। এসব হোটেলে দৈনিক প্রায় এক লাখ পর্যটকের রাত যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিছু কিছু হোটেল আগে ভাগে বুকিং দিলেও একটু বাড়তি সুবিধার আশায় অনেকে এখন বুকিং নিয়ে কথা বলছেন না।
আবহাওয়া যাই থাক পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা হবে এমনটি বিশ্বাস হোটেল ও গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের।
হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এম এন করিম বলেন, আন্তরিক সেবায় কক্সবাজারের প্রতি সবাইকে আকৃষ্ট করার তাগাদা থাকে আমাদের। এবারও ব্যতিক্রম নয়। তবে হোটেল মোটেল দিয়ে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব আয় করে সেভাবে পর্যটন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন নেই। তাই কাদা ও ভাঙা সড়ক-উপসড়ক দিয়ে চলাচলে ভ্রমণ পিপাসুদের ভোগান্তি পেতে হয়। তাই দ্রুত এই সমস্যা দূর করা প্রয়োজন।
জেলা সদরের বাইরেও হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, মহেশখালী, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ জেলার সব পর্যটন স্পটগুলোকে ইজারাদারেরা সাজাচ্ছেন নতুন করে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জিল্লুর রহমান জানান, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের সহযোগিতায় কয়েকটি ভাগে সাজানো হচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশকে। পাশাাপাশি সৈকতে বিপদাপন্নদের উদ্ধারকারী লাইফগার্ডদের প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও টেকনাফ ও ইনানীসহ সব পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, পর্যটন এলাকা হিসেবে পর্যটক নিশ্চিত করতে প্রশাসন সদা প্রস্তুত। ঈদ উপলক্ষ্যে দূর-দূরান্ত ছাড়াও স্থানীয় নানা বয়সের পর্যটকের ভিড় জমবে বালিয়াড়িতে। ভ্রমণ পিপাসুদের বিচরণ নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটদের একাধিক টিম টহলে থাকবে। টহল দিবে পুলিশ-র্যাবসহ সাদা পোশাকের শৃংখলাবাহিনীও।
সায়ীদ আলমগীর/আরএ/এমএস