দেশজুড়ে

ফাঁকা হয়ে আসছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

এ যেন এক অন্য রকম মহাসড়ক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যেখানে প্রতিদিন ভোগান্তির মুখে পড়ে গন্তব্যে ফিরতে হতো যাত্রীদের, এখন সেই চির চেনা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভিন্ন চিত্র। কুমিল্লা অংশে গত দু’দিন ধরে কোনো যানজট নেই। এতে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরে স্বস্থি প্রকাশ করছেন বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও যাত্রীরা।

আগে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগতো ৫/৬ ঘণ্টা। গত রোববার ও সোমবার ঢাকা-কুমিল্লা যাতায়াতে সময় লাগছে মাত্র ২ ঘণ্টা। এ দিকে ফোরলেনের গাড়ি যেন দুই লেনের সেতু এলাকায় যানজটের সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সোমবার বিকেলে দাউদকান্দির গোমতী নদীতে ফেরি চলাচলের উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান। হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশের কঠোর নজরদারীর কারণে কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি পুলিশের।

জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে দাউদকান্দির গোমতী ব্রিজের টোলপ্লাজা পর্যন্ত কুমিল্লা অংশে সোমবারও যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। কোথাও কোনো যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনও তেমন দেখা যায়নি। ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কের এ অংশে হাইওয়ে ও পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের যানজট প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত দাউদকান্দি, গৌরীপুর, ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, পদুয়ার বাজার, সুয়াগাজী, মিয়াবাজারসহ বিভিন্নস্থানে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। রয়েল এশিয়া পরিবহনের গাড়ির চালক জালাল উদ্দিন বলেন, সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে রওনা করে ১২টার দিকে কুমিল্লা এসে পৌঁছেছি। পথে কোনো যানজট ছিল না। পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ রাখার কারণে যানজট ছিল না।

ওই পরিবহনের যাত্রী ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান বলেন, মহাসড়কে যানজট নেই, পুলিশের তৎপরতাও ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ থাকলে ঈদে যানজটের সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে দুই লেনের সেতুতে যানবাহনের চাপ কমাতে সোমবার বিকেলে দাউদকান্দির গোমতী নদীতে ফেরি চলাচলের উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান কমোডোর মোজাম্মেল হক, সওজ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সবুর এবং হাইওয়ে ও থানা পুলিশের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ঈদে যাত্রীরা যেন ভালোভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে সেজন্য হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে। তাই মহাসড়কের কোথাও কোনো যানজট নেই।

কামাল উদ্দিন/এমএএস/পিআর