দেশজুড়ে

যমুনায় কার্গোর সঙ্গে সংঘর্ষে দুই খণ্ড হয়ে ডুবে যায় ট্রলারটি

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যমুনা নদীতে যাত্রী বোঝাই ট্রলার ও সারের কাঁচামাল বোঝাই কার্গোর মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ট্রলারটি দুই খণ্ড হয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। দ্রুতগতির কার্গোটি ট্রলারের ওপরে উঠে গেলে বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের চিৎকার চেঁচামেচিতে চরের লোকজন নৌকা নিয়ে এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় এমন তথ্য মিলেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিবালয়ের আলোকদিয়া চর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া চরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। তিনি জানান, ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে নারী-শিশুসহ প্রায় শতাধিক যাত্রী ছিল। বাতাসের বেগ বেশি থাকায় নদী ছিল উত্তাল। ট্রলার ও কার্গো গতি বেশি ছিল। এ কারণে সংঘর্ষের পরই যাত্রীবোঝাই ট্রলারটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। চরের আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনিও উদ্ধার কাজে অংশ নেন। দুর্ঘটনাটি চরের কাছাকাছি ঘটলেও নদীতে অনেক স্রোত থাকায় অনেকেই সাঁতরে তীরে উঠতে পারছিলেন না। তাদেরকে তারা নৌকায় তোলা হয়। আহত কয়েকজনকে তারাই হাসপাতালে পাঠান। প্রাণে বেঁচে যাওয়া বেশির ভাগ যাত্রীই কাজিরহাটে ফিরে গেছেন বলে জানান রবিউল।

সকালে পাবনার কাজিরহাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি মানিকগঞ্জের আরিচা ঘাটে আসছিল। নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা এম এম প্রিমিয়ার নামের কার্গোটি যাচ্ছিল পাবনার বেড়া এলাকায়। দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছে দুই শিশুসহ তিনজন। নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ডুবুরি দল।

নিখোঁজ শিশু মেঘার (৬) নানা নিজামুদ্দিন জানান, তার মেয়ে ও জামাই নাতনি মেঘাকে নিয়ে সাভারের নবীনগর যাচ্ছিলেন। ট্রলারডুবির খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে তার মেয়ে ও জামাইকে পেলেও নাতনিকে খুঁজে পাননি।

দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীরা মানিকগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় এক পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মনজিলা বেগম নামে এক যাত্রীকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত মনজিলা বেগমের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরে।

বি.এম খোরশেদ/আরএআর/আরআইপি