ভিজিএফের চাল পাচারের অভিযোগ তুলে নীলফামারীতে ট্রলিসহ ৫০ কেজির ১০৭ বস্তা চাল আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জহাটের বটতলীতে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় ট্রলির চালক বিকাশচন্দ্র (২৫) ও হেলপার আব্দুল হামিদকে (৩০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কোরবানি ঈদে নীলফামারী জেলার ৬ উপজেলার ৬০ ইউনিয়ন ও ৪ পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণে ৪ লাখ ৪ হাজার ৩১৫ কার্ডধারী পরিবারের জন্য ৮ হাজার ৮৬ দশমিক ৩০০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। ঈদের আগে বিতরণ করা কার্ডধারীদের মাথাপিছু চাল বরাদ্দ ছিল ২০ কেজি করে। বিভিন্ন ইউনিয়নে এই চাল বিতরণে অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। এমন কি চাল পাচারের সময় ডোমার উপজেলায় পৃথক দুই ঘটনায় ৩৩৪ বস্তা ও নীলফামারী সদরের সোনারায় ইউনিয়নে ১১ মেট্রিক টন চাল প্রশাসন আটক করে। এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে চাল পাচার করার অভিযোগ ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোরবানীর ঈদের ৯ দিনের মাথায় শুক্রবার ভোরে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার কবিরাজহাট এলাকা হতে আসা একটি ট্রলিতে নীলফামারী সদরের ভবানীগঞ্জ হাটের ভেতরে জিকরুলের গুদাম হতে ওই চাল লোড করা হয়। চালগুলো যেহেতু ভিজিএফের সেহেতু সরকারি খাদ্য গুদামের সিল মারা বস্তা পাল্টিয়ে প্লাষ্টিকের বস্তায় ভরে ওই ট্রাক্টরে পাচার করা হচ্ছিল। এ সময় ওই চাল আটক করে এলাকাবাসী পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
তবে এলাকাবাসী এই চালগুলো গোড়গ্রাম ইউনিয়নের দাবি করলেও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগেই আমার ইউনিয়নে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। কোনো চাল পাচার হয়নি। । তবে কার্ডধারীরা যদি ব্যবসায়ীদের কাছে চাল বিক্রি করে সেখানে জনপ্রতিনিধিদের করার কিছুই থাকে না।
এদিকে চাল ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম নয়ন জানান, ভরানীগঞ্জহাটে তিনি জিকরুলের গুদাম ভাড়া নিয়ে চাল-ধানসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা করেন। ৫০কেজি ওজনের ১০৭ বস্তা চাল তিনি কবিরাজহাটের একটি আবাসিক মাদরাসায় বিক্রি করেছেন। তারাই কবিরাজহাট হতে ট্রলি পাঠিয়ে চালগুলো নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় এলাকাবাসী চালগুলো ভিজিএফের মনে করে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেয়।
নীলফামারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আকতার চাল আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জাহেদুল ইসলাম/আরএআর/পিআর