জনগণনা থেকে বাদ পড়া দাশিয়ারছড়া ছিটমহলের প্রায় দেড় হাজার মানুষ তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। এ দুশ্চিন্তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সদ্য বিলুপ্ত ১১১টি ছিটমহলের অধিবাসীদের। ২০১১ সালের জনগণনার পর থেকে ছিটমহলে স্থায়ীভাবে বাস করেও ২০১৫ সালের যৌথ নিবন্ধনেও বাদ পড়ে অনেকে। এ নিয়ে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনা পেয়ে মঙ্গলবার দাশিয়ারছড়ায় এ বিষয়ে তদন্ত করেন ৩ সদস্য একটি প্রতিনিধি দল।ফুলবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ও ইউএনও অফিসের স্টাফ আমিনুলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা বুধবারের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাশিয়ারছড়া সফর করতে পারেন এ রকম সম্ভাবনা মাথায় রেখে হেলিপ্যাড নির্মাণে স্থান ও যাতায়াতের রুট কী হতে পারে তা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শন টিমে ছিলেন ভুরুঙ্গামারী ইউএনও এজেড এরশাদ আহসান হাবীব ও ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মাহমুদকুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আকতার হোসেন আজাদ জানান, বাংলাদেশ-ভারত ল্যান্ড বাউন্ডারি যৌথ কমিটির বৈঠক সোমবার ভারতের কোচবিহার জেলার মেকলিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ছিটমহল সংশ্লিষ্ট কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসকগণসহ ১৭ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। কুড়িগ্রামের ৩ সদস্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এজেড এরশাদ আহসান হাবিব। এ সভায় ভারত এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত (সদ্য বিলুপ্ত) ১৬২টি ছিটমহলের নিবন্ধন থেকে বাদ পড়াদের বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। তিনি আরো বলেন, যাদের নাম ২০১১ সালের যৌথ জরিপে তালিকাভূক্ত হয়েছে কিন্তু চলতি বছরের জনগণনায় নেই তারা ১ আগষ্ট থেকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে গণ্য হয়েছেন। আর যাদের দুটি তালিকার একটিতেও নাম নেই তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। বাদপড়া অধিবাসীদের জেলা প্রশাসক বরাবর যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করতে হবে। এরকম বাদপড়ার ঘটনা ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলেও ঘটেছে। পরবর্তীতে এসব আবেদন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত সংক্রান্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ মিটিং করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সে পর্যন্ত সবাইকে শান্ত এবং ধৈর্য্য ধারণ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি জানান, বৈঠকে সদ্য বিলুপ্ত ৬২টি ছিটমহলের সিএস রেকর্ড হস্তান্তর করা হয়। এতে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ২টি ছিটমহলের সিএস রেকর্ড আছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ১শ টি সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলের সিএস রেকর্ড হস্তান্তর করা হবে। তখন ছিটমহলের জমির মালিকানা নিয়ে আর কোনো ঝামেলা থাকবে না। এছাড়াও বৈঠকে ভারতের নাগরিকত্ব চাওয়া ৯৭৯ জন ছিটের বাসিন্দাকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত ভারতে গমনের বিষয়েও আলোচন হয়েছে। চলতি মাসেই ভারতের প্রতিনিধি দল ভারত গমনেচ্ছুদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলগুলো পরিদর্শনে আসবে। তখন এ বিষয়গুলো নিয়ে আরো অগ্রগতি হবে। বৈঠকে দু’দেশের সদ্য বিলুপ্ত ১৬২টি ছিটমহলের প্রথম পর্যায়ে ৬২টি ছিটের সিএস রেকর্ড বিনিময় করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ডে যুক্ত হওয়া ১১১টির মধ্যে ৪৩টির সিএস রেকর্ড হস্তান্তর করে ভারত। অপরদিকে ভারতের সাথে যুক্ত হওয়া ৫১টির মধ্যে ১৯টি ছিটমহলের ভূমির সিএস রেকর্ড ভারতের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ১৬ আগস্ট ভারতের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে ভারতে গমনেচ্ছুকদের বিষয়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই করবে। এছাড়াও যৌথ সভায় ভারতে গমনেচ্ছুকদের জন্য নির্দিষ্ট ট্রানজিট পয়েন্টের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এমএএস/এমআরআই