প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, ১৯৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ না হলে আমাদের স্বাধীনতা আসত না। সাঁওতাল বিদ্রোহই পাকিস্তানিদের বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, আমাদের তীর ধনুকের কাছে তোমাদের কামানের গুলি তুচ্ছ।
শনিবার দুপুরে কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তনগর মন্দির প্রবেশ সড়ক-দ্বীপ-এ দেশের প্রথম সাঁওতাল বিদ্রোহ ও তেভাগা আন্দোলন বিপ্লবীদের স্মারক ভাস্কর্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যা দিয়েছেন তা খুব কমিউনিটি দিয়েছেন। সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের দুঃখ দুর্দশার কথা চিন্তা করে আমরা আপনাদের জন্য দুটি জিনিস আশ্বাস আপনাদের হয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানাব। একটি হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভূমি কমিশন গঠন ও অপরটি মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপির উত্থাপিত কাহারোল উপজেলায় ইপিজেড স্থাপন।
ড. গওহর রিজভী বলেন, সাঁওতাল কমিউনিটির উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছেন। এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে সকলকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব। তার বক্তব্যের শেষে আগামী নির্বাচনে বর্তমান সরকারকে বিজয়ী করতে আরেকবার সুযোগ দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপাল। স্মারক ভাস্কার্য উম্মোচন কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- নাজমুল হক প্রধান এমপি, উষাতন তালুকদার এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুরুল ইসলাম, জাতীয় ক্ষুদ্র নৃ্গোষ্ঠী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের সেক্রেটারি জেনারেল শিশির শীল, ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) রাজেশ উকি, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বজলুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমদাদুল হক মিলন/আরএ/জেআইএম