বগুড়ার নন্দীগ্রামে মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের নামে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে উত্তোলন করা ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ওই কলেজের ১৭ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মচারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে বুধবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ এবং জাতীয় দিবসে কলেজের উপস্থিত না থাকাসহ মোট ১০টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ইউএনওকে কলেজটিকে রক্ষারও দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে নন্দীগ্রামে প্রতিষ্ঠিত মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজে বর্তমানে এক হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। সেখানে মোট ৫৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। কলেজটি সরকারিকরণের দাবি দীর্ঘদিনের। তবে পুরাতন এই কলেজের পরিবর্তে সম্প্রতি পাশের নন্দীগ্রাম মহিলা ডিগ্রি কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হয়।
ইউএনও বরাবর দাখিল করা অভিযোগে কলেজটি সরকারিকরণ না হওয়ার জন্য অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের অযোগ্যতাকে দায়ী করে বলা হয়, তিনি কলেজটি সরকারিকরণের জন্য দৃশ্যত কোনো চেষ্টাই করেননি। বরং সরকারিকরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে খরচের কথা বলে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। কিন্তু বারবার চাওয়ার পরও আজ পর্যন্ত তিনি ওই টাকা ফেরত দেননি।
অভিযোগে বলা হয়, অধ্যক্ষ জাতীয় দিবসসমূহে যেমন- ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ, ২১ ফেব্রুয়ারি ও ১৫ আগস্ট কলেজে উপস্থিত থাকেন না।
এ ব্যাপারে কলেজের প্রভাষক মোকশেদ আলী জানান, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সকলে এক জোট হয়েছেন। তিনি নিজেও অধ্যক্ষকে ৫৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। অন্যরা আরও বেশি টাকা দিয়েছেন। এরপরও কেন এ রকম হলো তা তারা জানেন না।
অভিযোগ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে কিছু শিক্ষক চক্রান্ত করে অভিযোগ দিয়েছে। কোনো টাকা লেনদেন হয়নি। তিনি কলেজটি জাতীয়করণে সব রকমের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কেন সেটি সম্ভব হলো না সেটি বলতে পারেন না।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার জানান, শিক্ষক কর্মচারীদের একটি অভিযোগ তিনি হাতে পেয়েছেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তিনি চিঠি দিয়েছেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
লিমন বাসার/আরএআর/জেআইএম