সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আগামী ১৪ অক্টোবর মহাপঞ্চমী দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরের দিন মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠিকতা। ধূপ,ঘণ্টা আর ঢাকের তালে তালে শুরু হবে শারদীয় উৎসব। আর তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাই শেষ সময়ে চলছে মা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ। সুন্দর প্রতিমা তৈরি করতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন সম্প্রদায়ের পালেরা।
এবছর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলয় ২৩৭টি মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে মির্জাপুর পৌর এলাকায় সর্বাধিক ৪২টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে। একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে মির্জাপুর উপজেলা গঠিত। এ উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ সনাতন ধর্মাবলম্বী রয়েছে। কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা এশিয়াখ্যাত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার নিজ বাড়ির পূজা মণ্ডপটি উপজেলার সর্ববৃহৎ মণ্ডপ। এই মণ্ডপে দেশ বিদেশের ভিআইপিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে।
এবছর মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নে ৩২টি, ভাতগ্রাম ইউনিয়নে ৩০, গোড়াই ইউনিয়নে ২০, বানাইল ইউনিয়নে ১৮, উয়ার্শী ইউনিয়নে ১৮, লতীফপুর ইউনিয়নে ১৬, ফতেপুর ইউনিয়নে ১৩, বহুরিয়া ইউনিয়নে ১২, মহেড়া ইউনিয়নে ১১, আনাইতারা ইউনিয়নে ৭, তরফপুর ইউনিয়নে ৬, ভাওড়া ইউনিয়নে ৫, বাশতৈল ৪, ও আজগানা ইউনিয়নে ৩টি মণ্ডপ ও মির্জাপুর পৌরসভায় সর্বোচ্চ ৪২টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
কয়েকটি পূজা মন্ডপ ঘুরে জানা যায়, প্রতিমা তৈরিতে পালেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন। উপজেলা সদরের মির্জাপুর গ্রামে (সাহাপাড়া) দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার দুর্গা মণ্ডপ, আনন্দময়ী যুব সংঘ, শিল্পী সংঘ, মধ্যপাড়া ক্লাব, বাইমহাটি প্রত্যাশা যুব সংঘসহ প্রধান প্রধান পূজা মণ্ডপগুলোতে দিন-রাত প্রতিমা তৈরির কাজ হচ্ছে। প্রায় এক মাস আগে থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এখন কোনো কোনো মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ের হাত, মাথা ও ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। সেই সঙ্গে কিছু কিছু মণ্ডপে চলছে প্রতিমাগুলোতে রংয়ের কাজও।
মির্জাপুরের গোড়াই ইউনিয়ন কচুযাপাড়া গ্রামের ভোলা নাথ পাল জানান, তিনি মির্জাপুর গ্রামের মহামায়া যুবসঙ্গের মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করছেন। এতে তিনি ৪৫ হাজার টাকা পাশ্রিমিক নিবেন বলে জানান।
মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নৌহাটা গ্রামের জনৈক চন্দ্র পালের ছেলে অচিন্ত পাল জানান, তিনি মির্জাপুর সাহাপাড়া মধ্যপাড়া সার্বজনিন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করছেন। এতে তিনি এক লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিবেন। এছাড়া তিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইলের লোকনাথ মন্দির, ঝিনাইদহ শহরে ৩টি, মাগুরা ও ফরিদপুর শহরে ২টি মণ্ডপ তৈরি করেছেন।
আন্ধরা শিল্পী সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা বলেন, অন্ধরা গ্রামের রশিক ভবন চত্বরে তাদের মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। দুই-একদিনের মধ্যে রংয়ের কাজ শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।
মির্জাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলক জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা প্রতি বছরের মতোই এবারও সকলের উপস্থিতিতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে পালিত হবে। তিনি প্রশাসনসহ সকলের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন।
মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক বলেন, স্থানীয়ভাবে সকলের সহযোগীতা নিয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার্বক্ষনিক প্রস্তুত। এছাড়া পূজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এস এম এরশাদ/আরএ/জেআইএম