দুর্নীতি ও অপকর্মের অভিযোগ এনে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোখলেসুর রহমান সরকারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার অপসারণ দাবি করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। শনিবার বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলার সর্বস্থরের জনগণের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে তারা এ দাবি জানান।
মিছিলটি গোপালগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে এসে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এ সময় তারা জেলা প্রশাসকের দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসক মোখলেসুর রহমান সরকার রেলওয়ের ভূমি অধিগ্রহণের দাবিদারদের পাওনা পরিশোধে সর্বনিম্ন ১৫-২০ পারসেন্ট টাকা উৎকোচ নিয়েছেন। নির্বাচন না দিয়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতির দায়িত্বে থেকে অর্থ লুটপাট ও ভবন দখল করে স্কুল পরিচালনা করছেন। গোপালগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক জোন বাস্তবায়নে অনুৎসাহ প্রদানসহ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক অসহযোগিতা করছেন।
এছাড়া সম্প্রতি ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে বর্তমান সরকারের আমলে গোপালগঞ্জের উন্নয়নের চিত্র সংবলিত নির্মিত থিম সং-এর ভিডিও চিত্রে এলাকার উন্নয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা ও ভূমিকা তুলে না ধরে জেলা প্রশাসক তার নিজের ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মনগড়া একটি থিম সং তৈরি করেছেন। যা এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাকে খাটো করেছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিটু, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিকদার নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ হোসেন দীপু, জেলা যুবলীগ সভাপতি জিএম সাহাবুদ্দীন আযম, সাধারণ সম্পাদক এমবি সাইফ বি মোল্লা, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, এস এম দীন ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এদিকে শুক্রবার রাতে মেলার দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, থিম সংয়ে কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছিল- যা ইতোমধ্যে আমরা সংশোধন করেছি। এছাড়া জেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে নিয়ে থিম সংটি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি অনেককে আহত করেছে। এজন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমাদেরকে ভুল আকড়ে থাকলে চলবে না। ভুলকে সংশোধন করে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
এস এম হুমায়ূন কবীর/আরএআর/জেআইএম