দেশজুড়ে

৬০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি

প্রতিমা শিল্পী মধুসূদন পাল, বয়স ৮০। এই ৮০ বছরেও একটু ক্লান্তি নেই। কাজেই তার শান্তি, কাজেই প্রশান্তি। ৬০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করে যাচ্ছেন এই গুণী মৃৎ শিল্পী। প্রতি বছর শুধু দুর্গাপূজোর সময়েই তিনি ১০ থেকে ১৫টি প্রতিমা তৈরি করেন সিলেটের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। এ বছরও সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে তৈরি করছেন ১৫টি প্রতিমা। এর মধ্যে মৌলভীবাজারের মাতার কাপন এলাকায় একটি প্রতিমা তৈরি করছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেল, মধুসূদন পাল নিবিড় পরিচর্যায় শেষ মুহূর্তে রঙ-তুলিতে নানা রঙের কারুকাজ করে প্রতিমাতে জাগাচ্ছেন জীবন্ত ছায়া। ৮০ বছর বয়সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। কথা বলতে চাইলে সময় নিলেন, জানালেন আর ২০ মিনিট কাজটা একটা পর্যায়ে আসবে তখন কথা বলা যাবে।

মৃৎ শিল্পী মধুসূদন পাল জানান, তার দাদা মতিলাল পাল ছিলেন শরীয়তপুরের বিখ্যাত প্রতিমা শিল্পী। দাদার কাছ থেকেই তার এই কাজ শেখা। প্রায় দুই বছর দাদার সঙ্গে থেকে শিখেছিলেন প্রতিমা তৈরির কাজ । ২০ বছর বয়স থেকেই নিজেই পুরোদমে শুরু করেন প্রতিমা তৈরির কাজ ।

তিনি আরও জানান, তাদের বাড়ি ছিল শরীয়তপুরে। স্বাধীনতার পরপর সপরিবারে মৌলভীবাজারে চলে আসেন। বর্তমানে মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের কিত্তারমহালে বসবাস করছেন। এক ছেলে আর দুই মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে শুভ পাল (২০) নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে আর লেখাপড়া করেননি। তাই এখন বাবার সঙ্গে থেকেই প্রতিমার কাছ করেন ।

ছেলেসহ আরও ২০ জন সহকারী আছে মধুসূদন পালের। এই বছর সিলেট , হবিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারে ১৭টি দুর্গা প্রতিমার কাজ করছেন। প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে মজুরি হিসেবে গড়ে ৫০ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন। দুর্গাপূজা মৌসুমে কাজ বেশি থাকে তবে বছরের অন্য সময়ও কাজ করেন তিনি। বছরে গড়ে ২০০টি প্রতিমা তৈরি করেন। ৬০ বছর যাবত প্রতিমা তৈরে করছেন, তাই হিসেব নেই কত হাজার প্রতিমা তৈরি করেছেন। এখন কাজ করতে ছেলে নিষেধ করলেও ঘরে বসে থাকতে ভালো লাগে না তার। ভাবেন তারা ভুল করছেনা তো!

মধুসূদন পাল জানান, সব চেয়ে ভালো লাগে যখন মানুষ তার সৃষ্টির প্রশংসা করে। আনন্দিত হন যখন নিজের কল্পনার সৌন্দর্য নিজের তুলিতে ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশে মৃৎ শিল্পীদের যে মূল্যায়ন রয়েছে সেভাবে আমাদের দেশে নেই । এতো বছর এই শিল্পের সঙ্গে থাকার পাশাপাশি সিমেন্টের তৈরি ভাস্কর্যও করেছি। কিন্তু দেশের বড় কোনো কাজে কখনো ডাক পাইনি। যদি বড় কোনো কাজে ডাক পেতাম ভালো লাগতো।

রিপন দে/আরএআর/এমএস