দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় যানজটে লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি

এমন কোনো দিন নেই যেদিন যানজটে আটকে থাকতে হয় না। কী সকাল, কী বিকেল কিংবা সন্ধ্যা-রাত। কোনো সময়ই যানজট না দেখে ঘরে ফেরে না মানুষ। যানজট যেন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বলছি, গাইবান্ধা সদর উপজেলার তুলসীঘাট, দাড়িয়াপুর, লক্ষ্মীপুর ও বাদিয়াখালী বাজার এলাকার কথা।

এসব এলাকার ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে কোনো না কোনো সময় যানজটে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণিপেশার লক্ষাধিক মানুষকে। যানজটে আটকা পড়ে নষ্ট হচ্ছে সময়। তারপরও গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে নেই কোনো ট্রাফিক ব্যবস্থা বা যানজট নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ।

জানা যায়, সদর উপজেলা, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন তুলসীঘাট, দাড়িয়াপুর, লক্ষ্মীপুর ও বাদিয়াখালী বাজারের ওপর দিয়ে জেলার সাত উপজেলাসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। এর মধ্যে তুলসীঘাট ইউনিয়নের তুলসীঘাট বাজার হচ্ছে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষদের গাইবান্ধা শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়ক। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে সাত উপজেলার বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ যাতায়াত করে।

ঘাগোয়া ইউনিয়নের দাড়িয়াপুর বাজারের ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ গাইবান্ধার সাত উপজেলায় নিয়মিত যাতায়াত করে গাইবান্ধা সদর উপজেলার পাঁচটি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আটটিরও বেশি ইউনিয়নের মানুষ। যে কারণে এই দাড়িয়াপুর বাজার সবসময় ব্যস্ত থাকে।

এদিকে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বাজারের ওপর দিয়ে গাইবান্ধা শহর থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরে যাতায়াতের প্রধান রাস্তা এটি। তাই এই রাস্তা দিয়ে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার আটটি ও সাদুল্লাপুরের তিনটিরও বেশি ইউনিয়নের মানুষ জেলা শহরে যাতায়াত করেন।

অপরদিকে গাইবান্ধা-বাদিয়াখালী-সাঘাটা সড়কের বাদিয়াখালী ইউনিয়নের বাদিয়াখালী বাজারেও যানজটে আটকে মানুষদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এই বাদিয়াখালী বাজারের ওপর দিয়ে গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ১৪টিরও বেশি ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করে। এখানে আলাই নদীর ওপর সরু ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেঁতুটির কারণে অনেক বেশি যানজটে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

তুলসীঘাটে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার, দাড়িয়াপুরে মঙ্গলবার ও শুক্রবার, লক্ষ্মীপুর এবং বাদিয়াখালীতে রোববার ও বুধবার করে হাটের দিনে এ ভোগান্তির কোনো শেষ থাকে না। এসব স্থানে কোনো ট্রাফিক না থাকায় যানজটে আটকা পড়ে অসংখ্য মানুষ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এসব রাস্তায় যানজটের মূল কারণ হচ্ছে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অটোভ্যান, ইজিবাইক ও সিএনজি। এ ছাড়া রাস্তার ওপর যানবাহন আটকিয়ে যত্রতত্র ওঠানামা তো রয়েছে। এসব যানবাহনের জন্য যদি সেসব স্থানে স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করে দেয়া হয় তাহলে এই যানজট নিরসন হবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

দাড়িয়াপুর সচেতন নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক সুকুমার চন্দ্র মোদক বলেন, যানজটে পড়ে প্রতিদিন আমাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে । কিন্তু দাড়িয়াপুরে যানজট নিরসনে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেউই।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ মো. আতাউর রহমান বলেন, জেলার যেখানেই প্রয়োজন সেখানেই ট্রাফিক দেয়া দরকার। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্বেও অনেক স্থানেই ট্রাফিক দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, এ জেলার জন্য মাত্র ১০ জন ট্রাফিক কনস্টেবল বরাদ্দ ছিলো। সুবিধার জন্য অন্যখান থেকে আরও ১১ জনকে এনে কাজ চালাচ্ছি। কিন্তু আরও ট্রাফিক কনস্টেবল দরকার। এই জন্য জেলার ট্রাফিক কনস্টেবল বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিন মাস আগে আমি আরও ৪০ জন কনস্টেবল চেয়ে আবেদন করেছি। তবে এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

রওশন আলম পাপুল/আরএ/আরআইপি