দেশজুড়ে

নির্বাচন ও বনভোজনের মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ কুড়িগ্রামবাসী

নির্বাচনী প্রচারণা আর বনভোজনের মাইকিংয়ের মাত্রাতিরিক্ত শব্দে নাকাল কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষ। বিধি নিষেধ না মেনেই চলছে এসব শব্দদূষণের প্রতিযোগিতা। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা, জনজীবনেও পড়েছে এর প্রভাব।

সারাদেশের মতো কুড়িগ্রামের ৪টি আসনেও চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রার্থী নিজে কিংবা কর্মী-সমর্থকরা জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে দলীয় এবং স্বতন্ত্রের ব্যানারে ৩৯ জন প্রার্থী এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। আর এসব প্রার্থী একাধিক মাইকিংয়ের মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের নির্বাচনী প্রচারণা। ইজিবাইক বা রিকশায় একটি বা দুটি মাইক বেঁধে ইচ্ছেমতো শব্দ বাড়িয়ে প্রার্থীদের প্রচারণা চলছে। আর এর উপর যোগ হয়েছে রাতের বেলা বনভোজনে অনিয়ন্ত্রিত গান-বাজনা।

হাসপাতাল, মসজিদ এমনকি আবাসিক এলাকাতেও এসব শব্দের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এতে শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বেশি।

বিধি অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়ের সামনে এবং আবাসিক এলাকায় হর্ন বাজানো, মাইকিং করা, এমনকি সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে জোরে শব্দ করা আইনত দণ্ডনীয়। তবে আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকাকে এর জন্য দায়ী করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী বলছেন, শহরে হাইড্রোলিক হর্নের কারণে এমনিতেই প্রচুর শব্দদূষণ হয়। আর নির্বাচনী প্রচারণার জন্য যত মাইক নেমেছে তাতে করে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। মাইক বহনকারীরা সাউন্ড কমানো-বাড়ানোর কিছু না বোঝায় হাসপাতাল আর মসজিদ বা জনসমাগম না মেনেই মাইকিং করে যায়। রাত ৮টা পর্যন্ত এদের যন্ত্রণা শেষ হতে না হতেই শুরু হয় গ্রামের উঠতি বয়সের ছেলেদের পিকনিকের গান বাজনা। অনেক এলাকায় সারারাতই গান-বাজনা বাজিয়ে থাকলেও কেউ দেখে না। বাধা দিতে গেলেই উল্টো বাধার মুখে পড়তে হয়।

দাদা মোড়ের মাইক ব্যবসায়ী মইনুল ও খলিলুর রহমান বলেন, এবার নির্বাচন আর পিকনিকের কারণে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি করে মাইক বাইরে যাচ্ছে। দুটি মাইকের শব্দ প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাভার হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০ থেকে ৫০ ডেসিবল। আর দেশের বিধি মোতাবেক মোটর বা যান্ত্রিক নৌযানজনিত শব্দের মানমাত্রা অনুযায়ী ৮৫ ডেসিবল এবং এলাকা ভিত্তিক শব্দের মানমাত্রা অনুযায়ী ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ও রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রাত্রীকালীন সময় ধরা হয়েছে। সে হিসেব অনুযায়ী নীরব এলাকার জন্য দিনে ৫০ ডেসিবল/রাতে ৪০ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ডেসিবল/রাতে ৪৫ ডেসিবল, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ডেসিবল/রাতে ৫০ ডেসিবল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবল/ রাতে ৬০ ডেসিবল ও শিল্প এলাকায় দিনে সময় ৭৫ ডেসিবল/ রাতে ৭০ ডেসিবল হতে হবে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত শব্দের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি ও শারিরিক-মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। বেশি শব্দের মধ্যে কেউ থাকলে তার মেজাজ খিটখিটে হওয়ার পাশাপাশি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চললেও আচরণ বিধি ভঙ্গের বিষয় বা মাইকিংয়ের বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

নাজমুল হোসেন/এফএ/জেআইএম