একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার পাঁচ আসনের ২৬ প্রার্থীর মধ্যে ২০ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। বাজেয়াপ্ত হওয়াদের মধ্যে বিএনপির চারজনসহ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এক সংসদ সদস্যও রয়েছেন।
আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে পড়া মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৭৮ হাজার ১৭২টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের জয়ী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মানু মজুমদার পেয়েছেন দুই লাখ ৪৯ হাজার ১৭৭ ভোট। তার নিকটম প্রতিদ্বন্দ্বী কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পেয়েছেন ১৭ হাজার ৬৫২ ভোট। সিপিবির আলকাছ উদ্দিন মীর পেয়েছেন তিন হাজার ১৯৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. মামুনুর রশিদ পেয়েছেন পাঁচ হাজার ২৬৮ ভোট এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশতাক আহমেদ রুহী আপেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬২২ ভোট। মোশতাক আহমেদ নবম সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন। তবে তিনি দশম নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছবি বিশ্বাসের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।
সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় এ আসনে বিএনপি, সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর জামানতের টাকা ফিরে পাবেন না।
নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে মোট ভোট পড়েছে তিন লাখ ২২ হাজার ৬৯৮টি। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু পেয়েছেন দুই লাখ ৮৪ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট অর্থোপেডিকস চিকিৎসক অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল হক পেয়েছেন ৩০ হাজার ৭২২ ভোট। সিপিবির মোশতাক আহমেদ পেয়েছেন এক হাজার ২০৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. খুরশেদ আলী পেয়েছেন দুই হাজার ২১৮ ভোট, জাকের পার্টির মো. বরকত উল্লাহ পেয়েছেন ৬১৬ ভোট এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সজীব সরকার পেয়েছেন ৫০৫ ভোট। এখানেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া অন্য পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনে মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৮৪ হজার ৪৫১টি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল পেয়েছেন দুই লাখ ৭০ হাজার ১৪৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী পেয়েছেন সাত হাজার ২২০ ভোট। সিপিবির আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৪০ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোটের এহ্তেশাম সারওয়ার পেয়েছেন ৫৬৪ ভোট, জাতীয় পার্টির জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া পেয়েছেন ৯৮৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের জাকির হোসেন পেয়েছেন দুই হাজার ৬৮৮ ভোট। এখানেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া অন্য পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৪৬ হাজার ৭৩১টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী টানা দুবারের সংসদ সদস্য রেবেকা মমিন পেয়েছেন দুই লাখ চার হাজার ৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান পেয়েছেন ৩৮ হাজার ১৮১ ভোট। সিপিবির জলি তালুকদার এক হাজার ১১০ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মোফাজ্জল হোসেন পেয়েছেন ৯২১ ভোট। এই চার প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়া বাকিরা জামানত হারিয়েছেন।
নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনে মোট ভোট পড়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার ৪৩৭টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের টানা দুবারের বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল (বীর প্রতীক) পেয়েছেন এক লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার পেয়েছেন ১৫ হাজার ৬৩৮ ভোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের আবদুল ওয়াহহাব হামিদী পেয়েছেন ১০২ ভোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এম আর মাসুদ ৩২৭ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলনের শামীম হোসেন পেয়েছেন দুই হাজার ৩৫৯ ভোট। এখানেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া অন্যদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, নির্বাচনে পড়া ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় ওই ২০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
কামাল হোসাইন/এমএআর/এমএস