শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কে ২৭ কিলোমিটার এলাকার সংস্কার কাজ চলছে ধীরগতিতে। এক দফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ধুলা-বালিতে দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। পণ্যবাহী যানবাহনগুলো এ অবস্থার মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চট্টগ্রাম অঞ্চলে যাতায়াত করেছে।
শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কের সদর উপজেলার মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জের নরসিংহপুর (আলুর বাজার) ফেরিঘাট পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কের নাজুক অবস্থা দীর্ঘ দিন থেকে। সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত থাকায় বৃষ্টির পানিতে ওই গর্তে কাদা ও পানি জমে যানবাহন চলাচল করতে পারছিল না। এতে গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় ও বৃষ্টি কাদা না থাকায় ওই সড়ক দিয়ে ফের যান চলাচল শুরু হয়।
সওজ সূত্র আরও জানায়, দুটি গুচ্ছ প্রকল্পের মাধ্যমে মনোহর বাজার থেকে নারায়ণপুর পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সংস্কারে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। গত ১৮ মার্চ শহীদ এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা জেভি ও র্যাব আরসি সরদার এন্টারপ্রাইজ জেভি নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া একই সময় নারায়ণপুর থেকে নরসিংহপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের জন্য একজন ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি আর কাজটি করতে আগ্রহী হয়নি। তাই পুনরায় দরপত্র দিয়ে ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে গত ২৬ আগস্ট কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। ওই ১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করার জন্য ১৫ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগের দুটি কাজ শেষ করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সময় দেয়া হয় ছয় মাস। গত ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু তারা কাজ শেষ না করে সড়ক ও জনপথ বিভাগে সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন। সওজ তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৭০ দিন সময় বাড়িয়ে দেয়। সে হিসেবে গত ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প দুটির কাজ শেষ করার কথা ছিল।
কিন্তু এরমধ্যে র্যাব আরসি, সরদার এন্টারপ্রাইজ জেভি সাজনপুর থেকে নারায়ণপুর পর্যন্ত যে অংশটির কাজ করছে তার ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৫০ শতাংশের কাজ চলছে।
জানতে চাইলে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সিরাজ সরদার বলেন, সড়কের কাজটি করার জন্য একটি বড় জায়গা প্রয়োজন ছিল, জায়গাটি পেতে একটু সময় লেগেছে। তাছাড়া দুটি ঈদ ও নির্বাচনের কারণে শ্রমিক সংকট ছিল। আগামী এক মাসের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
আর মনোহর বাজার থেকে সাজনপুর পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার অংশের সাড়ে পাাঁচ কিলোমিটার বিটুমিনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি দুই কিলোমিটারের কাজ চলমান আছে।
এছাড়া নারায়ণপুর থেকে নরসিংহপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার অংশের কাজ বন্ধ রয়েছে। সড়কের ওই অংশটিতে ধুলা বালুর কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তা জুড়ে ধুলা বালি। সড়কের পাশে বাড়ি হওয়ায় আমাদের সমস্যা বেশি। দরজা জানালা বন্ধ করে ঘরে থাকতে হচ্ছে। ধুলা বালির জন্য রাস্তা দিয়েও চলতে পারছি না।
ট্রাক চালক জসিম উদ্দিন বলেন, ১০ মাস আগে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও কাজের তেমন অগ্রগতি নেই। এখনো আমাদের ঝুঁকি নিয়ে খানাখন্দক আর গর্তের মধ্য দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
সংস্কার কাজের ধীরগতি নিয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, সড়কের কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারদের চাপ দেয়া হচ্ছে। জানুয়ারি মাসের মধ্যে যাতে সড়কের ১৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ করা হয় তার উদ্যাগ নেয়া হবে। বাকি ১২ কিলোমিটার শেষ হতে আগামি জুন লাগবে।
ছগির হোসেন/এফএ/পিআর