নিয়ম অনুযায়ী প্রটোকল না দিয়ে এক বিচারপতিকে অসম্মান করার দায়ে ফেনীর সাবেক জেলা জজ ফিরোজ আলমকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে। আদালত অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে বুধবার তার বিরুদ্ধে এই রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একই ঘটনায় ফেনী জেলা জজ আদালতের নাজির ও নায়েবে নাজিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
একই ঘটনায় ফেনী জেলা জজ আদালতের নাজির ও নায়েবে নাজিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে, বিচারপতিদের সঙ্গে কী রকম আচরণ করতে হবে সে বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাফি আহমেদ।
তিনি জানান, ফেনীর সাবেক জেলা জজের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা সংক্রান্ত মামলায় জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্টে বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে সাবেক জেলা জজ ফিরোজ আলমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফয়সাল এস খান ও মইনুদ্দীন। অপর দুজনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন ও মিনহাজুল হক চৌধুরী।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে অক্টোবরে তৎকালীন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম ফেনীতে যান। বিষয়টি অবহিত করার পরও ফেনীর জাজশিপ থেকে কোনো প্রতিনিধি আসেনি বা যোগাযোগও করেননি।
এরপর ওই বছরের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্ট ফেনীর জেলা জজ মো. ফিরোজ আলমসহ তিনজনের প্রতি আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। এর বিরুদ্ধে ফিরোজ আলম আপিলে আবেদন করেন, যা ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি খারিজ হয়। আদালত অবমাননার রুলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ রায় দেন।
আদালত অবমাননার দায়ে ফেনীর সাবেক জেলা জজ মো. ফিরোজ আলমকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ভ্রমণ ও পরিদর্শনের ক্ষেত্রে প্রটোকল ব্যবস্থা নিয়ে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত, যা সার্কুলার আকারে জারি করতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও আইন সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জেলা জজের পক্ষের আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা যদি কোনো জেলা পরিদর্শন বা ভ্রমণে যান, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা আদালত ও জেলার অন্য কর্মকর্তারা কী ধরনের প্রটোকল ব্যবস্থা দেবেন, সে বিষয়ে হাইকোর্ট সুনির্দিষ্ট চার দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। বিচারপতি পৌঁছানোর পর বা তার অবস্থানস্থলে জেলা জজ অথবা অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তা থাকতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে গেলে সে ক্ষেত্রেও আদালতের জাজিং চার্জ নেজারত বা আদালতের স্টাফ থাকতে হবে। ফেরার সময়ও জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ তাকে বিদায় জানাবেন বলা হয়েছে। এই নির্দেশনাগুলো সার্কুলার আকারে জারি করতে রেজিস্ট্রার জেনারেল ও আইন সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এফএইচ/এমএমজেড/এমবিআর/জেআইএম/এমএস