নটরডেম কলেজের ছাত্র তানভীর আহমেদ খান (১৮) হত্যা মামলায় চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুরুজ্জামান নরসিংদী আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযুক্তরা হলেন- মো. আল আমিন (১৯), সাগর ভূঁইয়া (২১), হৃদয় চন্দ্র দাস (২১) ও মাকসুদুল হাসান সাদী (২০)।
গত বছরের ২২ নভেম্বর ভোরে নরসিংদীতে তানভীর আহমেদকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা। ঘটনার সময় তিনি বাসা থেকে নরসিংদী রেল স্টেশনে যাচ্ছিল। নিহত তানভির নরসিংদী শহরের বীরপুর এলাকার নাসির উদ্দিন খানের একমাত্র পুত্র সন্তান। তার বাবা হাইস্কুলের শিক্ষক। ঘটনার পরদিন সকালে এ ব্যাপারে ভৈরব রেলওয়ে থানায় তার বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, তানভীর আহমেদ খান গত বছর নটরডেম কলেজ থেকে জিপিএ -৫ পেয়ে এইসএসসি পাস করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। ঘটনার দিন তিনি তার নিজ বাসা নরসিংদী থেকে ভোর সাড়ে ৪টায় বের হয়ে ট্রেনে ঢাকা যেতে রেল স্টেশনে যাচ্ছিলেন। বাসা থেকে খুব কাছেই রেল স্টেশন। বাসা থেকে বের হয়ে কিছু দূর এগিয়ে গেলে একদল ছিনতাইকারী তার পথ রোধ করে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তার পেটে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ খবর পেয়ে ভৈরব রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে তার মরদেহ ভৈরব রেলওয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিচয় পেয়ে পুলিশ তার বাবাকে খবর দেয়।
এদিকে ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি আবদুল মজিদ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্য ছিনতাইকারী আল আমিনকে গ্রেফতার করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করে আরও তিনজনের নাম জানান। তারপর রাতেই অপর তিন ছিনতাইকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরে তারা সবাই নরসিংদী আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
নিহত তানভীরের বাবা নাসির উদ্দিন খান বলেন, ছিনতাইকারীরা আমার একমাত্র বুকের ধনকে মেরে ফেলল। অনেক মেধাবী ছিল আমার ছেলে। আমি আমার ছেলে হত্যার কঠোর বিচার দাবি করছি।
ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) আবদুল মজিদ জানান, ছিনতাইয়ের সময় তানভীর বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে হত্যা করে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু ছিল না। পুলিশ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা মধ্য অপরাধীদের গ্রেফতার করে।
আসাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর/পিআর